রফিকুল ইসলাম মাদানীর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ - CTG Journal রফিকুল ইসলাম মাদানীর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ - CTG Journal

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
দিনে সাইকেল চুরি, রাতে ইয়াবা বিক্রি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন পরামর্শ ১৯ দিনে জামিনে মুক্ত ৩৩ হাজার কারাবন্দি ফেসবুক কি শুনতে পায়, কীভাবে নজরদারি করে? পানছড়িতে ভেস্তে যাচ্ছে এলজিইডি’র ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার তীর রক্ষা প্রকল্প: মরে যাচ্ছে ঘাস, তীরে ধরেছে ফাটল খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে বিস্মিত কূটনীতিকরা বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় কাপ্তাইয়ে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল চৈতন্য গলির জুয়ার আস্তানায় পুলিশের হানা, আটক ১৪ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপকহারে করোনা টেস্টের নির্দেশ রাউজানে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
রফিকুল ইসলাম মাদানীর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

রফিকুল ইসলাম মাদানীর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

কথিত ‘শিশু বক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আবেদন করা হয়। আগামী ১৫ এপ্রিল রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এর উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ গাছা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ জানান, রফিকুল ইসলাম মাদানীর মোবাইল ফোন আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও চিত্রসহ পর্নোগ্রাফিতে ভরা রয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মাদানীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব পর্নোগ্রাফির সন্ধান পেয়েছেন।  

উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, কথিত ‘শিশু বক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানীকে (২৬)  গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসব মোবাইল ফোনের ফরেনসিক টেস্টের পর বিশেষজ্ঞদের যে মতামত পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম মাদানী তার মোবাইলে এডাল্ট ছবি ও ভিডিও নিয়মিত দেখতেন, সেগুলো স্টোর করতেন এবং লিংক দিতেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এর ৮(৫)(ক) ধারা সংযোজন করা হয়েছে। তিনি পর্নোগ্রাফি ভিডিও দেখাসহ রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। গত ৮ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি’র) গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ১১ এপ্রিল বাসন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এর গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানীর কাছ থেকে জব্দকৃত মোবাইল ফোন এক্সপার্টের কাছে দেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে তিনি পর্নোগ্রাফি ভিডিও দেখতেন এবং সংরক্ষণ করতেন। পর্নোগ্রাফি ভিডিও সংরক্ষণ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই তার বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় পর্নোগ্রাফি মামলার ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি বিষয়ে আলাদাভাবে চার্জশিট দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এডিসি মোহাম্মদ আহসান, গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন ও পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দলাল উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, কথিত ‘শিশু বক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানী বিভিন্ন মাহফিলে রাষ্ট্র তথা সরকার বিরোধী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী উসকানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। যা তার নির্দেশে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। রফিকুল ইসলাম মাদানীর উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার অনুসারীরা গত ২৬ মার্চ ঢাকার জাতীয় বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটানো, আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতাসহ সরকারের প্রতি ঘৃণারভাব সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেশের সরল ও ধর্মানুরাগী মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে বক্তব্য দেন। যা ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তিনি বাড়িয়ালী এলাকায় নিজের ‘মারকাজুল নূর আল ইসলামিয়া মাদরাসায়’ বসে দেশদ্রোহ ও সরকার বিরোধী কার্যকলাপ এবং নাশকতা কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করতেন। সরাসরি সশস্ত্র জিহাদের ডাক দেন। এখনই জিহাদের উপযুক্ত সময় বলে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানির ভিডিওচিত্র ফেসবুক, ইন্টারনেট ও ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেল ও পেজে আপলোডের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

গত গত ৭ এপ্রিল ভোরে মাদানীকে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা এলাকার বাড়ি থেকে আটক করেন র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। তিনি ওই এলাকার মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। ওই দিন রাতেই গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। ৮ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ওই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। র‌্যাব-১ এর জেসিও-৮৭২৭ নায়েব সুবেদার (ডিএডি) মো. আব্দুল খালেক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। একইদিন এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গাজীপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করলে গাজীপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে সেখানে থেকে ১০ এপ্রিল তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১১ এপ্রিল জিএমপি’র বাসন থানায় পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT