যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন ধরন বিপজ্জনক, ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো পৃথিবীতে - CTG Journal যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন ধরন বিপজ্জনক, ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো পৃথিবীতে - CTG Journal

রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১২:৫২ অপরাহ্ন

        English
যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন ধরন বিপজ্জনক, ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো পৃথিবীতে

যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন ধরন বিপজ্জনক, ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো পৃথিবীতে

বিশ্ব যখন কোভিড টিকার পর্যাপ্ত ডোজের সঙ্কটে, ঠিক তখনই এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক টিকাদানের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং টিকাদানে সফল দেশগুলোকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে

যুক্তরাজ্যের কেন্ট অঞ্চলে প্রথম শনাক্ত করা হয় করোনাভাইরাসের অভিযোজিত অতি-সংক্রামক একটি বংশজ। এটি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, বিদ্যমান টিকার আওতায় এর বিরুদ্ধে বেশি সুরক্ষা না পাওয়ার ফলেই- তা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের জেনেটিক সার্ভেইলেন্স পোগ্রামের প্রধান।

শ্যারন পিকক নামের শীর্ষ এই বৈজ্ঞানিকের মতে, ‘যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনটি ব্যাপক প্রাধ্যান্য লাভ করেছিল এবং তা খুব সম্ভবত বাকি দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

করোনা মহামারিতে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ২৩ লাখ মানুষ, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তছনছ হয়েছে শত শত কোটি মানুষের। তারমধ্যেই, অভিযোজিত জীবাণুর হাজারও ধরনের মধ্যে; কোনো কোনোটির সম্পর্কে বেশি উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী মহল। তাদের ভয় হলো; মারাত্নক ধরনগুলোর জন্যে হয়তো অনুমোদিত টিকাকে পুনঃগবেষণার মাধ্যমে উন্নয়ন করতে হবে। আবার অনেকক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে। 

বিশ্ব যখন ভ্যাকসিন মজুদের প্রভাবে টিকার পর্যাপ্ত ডোজের সঙ্কটে, ঠিক তখনই এমন পরিস্থিতি বৈশ্বিক টিকাদানের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং টিকাদানে সফল দেশগুলোকেও নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে।   

শ্যারক পিকক আরও জানান, এপর্যন্ত যুক্তরাজ্যে দেওয়া করোনার টিকাগুলো নতুন ধরনটি প্রতিরোধে সফল হলেও, আগামীদিনের অভিযোজন সেই প্রতিষেধকের সুরক্ষা অকার্যকর করে তোলার হুমকি সৃষ্টি করেছে। 

“বি-১.১.৭ (নতুন ধরনের সাঙ্কেতিক নাম) নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্দেগের কারণ; এটি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে ছড়াচ্ছিল। ইতোমধ্যেই প্রমাণ পেয়েছি, এটি পুনঃঅভিযোজন শুরুও করেছে। ফলে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য নিয়ে উদ্বেগটি সঙ্গত। এরফলে আমরা যেভাবে মহামারি প্রতিরোধ ও ভ্যাকসিনেশন উদ্যোগ সাজিয়েছি- তা ব্যর্থ হতে পারে,” তিনি বিবিসি’কে বলেন।

“এটি বেশ সংক্রামক, সেকারণেই পুরো দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর এখন তা পরিবর্তিত হওয়ার ধারা অব্যাহত রেখে পুরো বিশ্বে টিকাদান কর্মসূচির বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করেছে।”

অভিযোজিত জীবাণুর সবচেয়ে মারাত্নক পরিবর্তিত ধরনটি মিলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল অঞ্চলে। একে ‘ব্যাপক উদ্বেগজনক’ বংশজ বলে অবিহিত করেছে নিউ অ্যান্ড ইমার্জিং র‍্যাসপেটরি ভাইরাস থ্রেটস অ্যাডভাইজরি গ্রুপ।  

এপর্যন্ত বি-১.১.৭ থেকে E484K বলে চিহ্নিত অভিযোজনের ২১টি সংক্রমণ শনাক্ত করা গেছে। অনুজীবের বহিঃআবরণে থাকা কাঁটা সদৃশ স্পাইক প্রোটিনে এই পরিবর্তন আসে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে পাওউয়া নতুন ধরনের মধ্যেও একই রকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। 

পিককের মতে, “বেশি আশাবাদী না হয়ে বাস্তববাদী হওয়া উচিৎ। কারণ, অন্তত পাঁচবার করোনার অভিযোজন থেকে পাঁচটি মূল ধারার অভিযোজন লক্ষ্য করা গেছে বিশ্বব্যাপী। আর এর ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে। অন্ধ-আত্মবিশ্বাস নয়, বিপদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আর সতর্কতাই সাহায্য করবে।”

  • সূত্র: রয়টার্স 

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT