যশোরে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটা যাচ্ছে ৮৭ লাখ টাকা! - CTG Journal যশোরে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটা যাচ্ছে ৮৭ লাখ টাকা! - CTG Journal

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে আরও দুই ডজন হেফাজত নেতা আবারও চিকিৎসক দম্পতিকে জরিমানা ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন পেয়ে কারামুক্ত ৯ হাজার আসামি লকডাউনের পঞ্চম দিনে ১০ ম্যাজিস্ট্রেটের ২৪ মামলা ওমানের সড়কে প্রাণ গেলো তিন প্রবাসীর, তারা রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা একই কেন্দ্রে টিকা না নিলে সার্টিফিকেট মিলবে না মামুনুলের বিরুদ্ধে অর্ধশত মামলা, সহসাই মিলছে না মুক্তি ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট পেতে সৌদি প্রবাসীদের বিশৃঙ্খলা সেরে ওঠা কোভিড রোগীদের জন্য কি ভ্যাকসিনের এক ডোজই যথেষ্ট? মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ নিরাপদ কৌশল লকডাউন: স্বাস্থ্য অধিদফতর ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
যশোরে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটা যাচ্ছে ৮৭ লাখ টাকা!

যশোরে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটা যাচ্ছে ৮৭ লাখ টাকা!

মোঃ জামাল হোসেন ,বেনাপোল || যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। খাত উল্লেখ ছাড়াই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু ১ হাজার ৬২০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। পাঁচ হাজার তিনশত সত্তর আসনের বিপরীতে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা। খাত বহির্ভূত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। ভর্তি বয়কট, সংবাদ সম্মেলনে কলেজের অধ্যক্ষ আবু তালেব মিয়ার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারপরও সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি আদায় করা হচ্ছে না। আগের নিয়মেই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়মেই ফি আদায় করা হচ্ছে। আমি নতুন এসেছি। নতুন করে কোনো খাত সৃষ্টি করিনি। ফলে ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই এ মুহূর্তে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। লিখিত বক্তব্যে সরকারি এমএম কলেজ শাখা বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জয় রায় অভিযোগ করেন, ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এবারো ভর্তিচ্ছুক প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জেনেছি অধ্যক্ষ স্যার বলেছেন ‘চালের দাম বেড়েছে, তাই সামান্য বেশি নেওয়া হচ্ছে।’ অধ্যক্ষ স্যারের এমন মন্তব্য ব্যথিত করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে আমরা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া স্যারের সঙ্গে বসেছিলাম। তিনি গরমিল সম্বলিত একটি হিসেব দিয়েছেন। তাতে আমরা দেখেছি ভর্তি হওয়ার আগেই বিভাগ পরিবর্তনের জন্য ৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও ২০০ টাকা হারে ফ্রি আদায় করা হচ্ছে। নিরাপত্তা প্রহরী/নৈশ প্রহরী খাতে শিক্ষার্থী প্রতি ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও সাহিত্য সংস্কৃতি, ম্যাগাজিন, চিকিৎসা কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও এমন আরও কিছু খাত মিলে অন্তত ১ হাজার ৬২০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। সেই হিসেবে কলেজের ১৭টি বিষয়ে ৫ হাজার ৩৭০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি বাবদ অতিরিক্ত ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা আদায় হবে।
যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রেজিস্টেশন ফি ৮০০ টাকা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ফি ২০ টাকা, বিএনসিসি ৫ টাকা, রোভার স্কাউট ফি ১০ টাকা। সর্বমোট ৮৩৫ টাকা। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভাগ ভেদে ৪ হাজার ৫৩০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। খাতবর্হিভূত অবৈধ অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধের দাবি করছি। ইতোমধ্যে আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পলাশ বিশ্বাস, এমএম কলেজ শাখার দপ্তর সম্পাদক সঞ্জয় পাল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক পলাশ পাল, এমএম কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা খাতুনসহ অনেকে।
এদিকে, অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত তিনদিন ধরে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। সোমবার শিক্ষার্থীরা ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে ছাত্রলীগও সমর্থন জানায়। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। অতিরিক্ত ফি বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT