শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়ীদের তালিকা নাই

মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়ীদের তালিকা নাই

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ  স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রেখেছেন, জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এমন চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী ও শিক্ষকদের তালিকা থাকলেও ব্যবসায়ীদের কোনও তালিকা নেই। এ তালিকা করার জন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মনে। দেশের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ সব তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে,এফবিসিসিআইয়ের তিন জন সাবেক সভাপতি তাদের মেয়াদকালের সময় মুক্তিযোদ্ধা ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, এ কে আজাদ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বিভিন্ন সময়ের উদ্যোগের কারণে এ লক্ষ্যে সাব কমিটিও গঠন করেছিলো এফবিসিসিআই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই কমিটি চূড়ান্ত কাজটি করতে পারেনি। ফলে আজ  পর্যন্ত ব্যবসায়ী সমাজের বীর মুক্তিযাদ্ধাদের কোনও তালিকা হয়নি।

এ ব্যাপারে এফবিসিসিআয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম বলেন,‘আমাদের কমিটির মেয়াদকালে একবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে একটি সাব কমিটিও গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এটিকে চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল কাশেম জানান, আমরা ব্যবসায়ীরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন দেশের অর্থনীতিতে অবদান  রাখছি। ভ্যাট ও ট্যাক্স দিচ্ছি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অবদান রাখছি। এজন্য সরকার তথা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সম্মাননা পাই। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজও পর্যন্ত এফবিসিসিআইয়ের কোনও তালিকায় নিজের নাম দেখলাম না। কোনও সম্মাননাও পেলাম না।’

একাধিক ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, এ তালিকা হওয়া দরকার। চিকিৎসকদের তালিকা আছে। সাংবাদিকদের তালিকা আছে। প্রকৌশলীদের তালিকা আছে। শিক্ষকদের তালিকা আছে। তাহলে কেন ব্যবসায়ীদের তালিকা থাকবে না?

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন,‘আমাদের মেয়াদকালে এ লক্ষ্যে গঠিত সাব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এফবিসিসিআয়ের সদস্যভুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে ১৪৭ জনের নাম চূড়ান্ত করে তাদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। সাব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ওই ১৪৭ জনের নামের তালিকা নিয়ে নানা প্রকার জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে আমাদের ওই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি।’

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা শুধু দেশের অর্থনীতি নয়, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখছি। দেশের সংকটকালেও আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরকারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে, বিশেষ করে সেই সময়ে গাড়িতে বোমা হামলা ও পেট্রোল বোমার আঘাতে যারা মারা গিয়েছিলেন, তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের অনেককেই সক্ষমতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী পরবর্তীতে চাকরি দেওয়া হয়েছে। যারা আজও সেই চাকরি করছেন।’ শুধু তাই নয়, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-মসজিদ ও এতিমখানা পরিচালনাসহ নানাভাবে সমাজে অবদান রাখছেন বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক, মানিকগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস- বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিআইএস-বিসিসিসিআই) পরিচালক মাহবুব ইসলাম রুনু বলেন, ‘এফবিসিসিআইয়ে অনেক ব্যবসায়ী নেতা আছেন, মুক্তিযুদ্ধে যাদের বীরত্বগাঁথা রয়েছে। তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখছেন।’

বিভিন্ন সময়ে এফবিসিসিআই ও জেলা চেম্বারগুলোয় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বর্তমানে দিচ্ছেন এমন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা-ব্যবসায়ী নেতার নাম উল্লখ করে তিনি আরও বলেন,‘এফবিসিসিআইয়ের সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ, সাবেক পরিচালক ও বগুড়া চেম্বারের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, পরিচালক ও শেরপুর চেম্বারের সভাপতি মোহম্মদ মাসুদ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল চেম্বারের আবুল কাশেম উলেখযোগ্য। এ তালিকার বাইরেও বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী গোলাম দস্তগীর রয়েছেন, যিনি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত কিন্তু কখনোই এফবিসিসিআই বা কোনও চেম্বারের নেতৃত্বে ছিলেন না। তিনিও তার নিজস্ব এলাকায় সংসদ সদস্যের দায়িত্বের বাইরেও অনেক সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।’

এ ব্যাপারে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন,‘অবশ্যই ফেডারেশনের সদস্যভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থাকা উচিৎ। এটি যাতে করা হয় তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT