বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
মিরসরাইয়ের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র গুলোর নাজুক অবস্থা

মিরসরাইয়ের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র গুলোর নাজুক অবস্থা

মুহাম্মদ ফিরোজ মাহমুদ, মিরসরাইঃ মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান গুলোতে খুবই নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। অবকাঠামোগত সমস্যা, জনবল সংকট, জরাজীর্ন ভবন সহ বিভিন্ন কারনে সরকার প্রদত্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মিরসরাইয়ের প্রান্তিক জনগন।

এইসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র গুলোতে ২৪ ঘন্টা নিরাপদ প্রসব সেবা প্রদানের কথা থাকলেও হাতে গোনা দুই একটি থেকে সন্তোষজনক সেবা পাচ্ছে তৃনমুলের রোগীরা। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে রোগীরা উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে বাধ্য হয়ে প্রসবকালীন সেবা গ্রহন করছে। অপরদিকে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো অর্থ উপার্জনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারী না কওে সিজারিয়ান অপারেশন করছেন। এতে একদিকে রোগীরা যেমন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অন্যদিকে চরম স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পড়ছেন নারীরা।

পরিত্যক্ত ভবন ও অবকাঠামো সংকটের কারনে উপজেলার ধূম, মঘাদিয়া, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে গুলো থেকে স্থানীয় জনগন কোন সেবা গ্রহন করতে পারছেনা। সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নে যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র রয়েছে সেটি পরিত্যক্ত। ওই বিভাগের কর্মকর্তারা ইউনিয়ন পরিষদেও একটি কক্ষে বসেন। কিন্তু সেখানে কোন প্রকার প্রসব কালীন সেবা পাননা তার ইউনিয়নের লোকজন।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের একটি কর্মশালার তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত দূর্গাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ৪ জন, হাইতকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১ জন, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১১ জন, ইছাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১১ জন, করেরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ৮ জন, কাটাছরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান কেন্দ্রে ১ জন, খৈয়াছরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ৩ জন, মায়ানী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ৬ জন, মিরসরাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১২৪ জন, ওসমানপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১০ জন, ওয়াহেদপুর (আরডি) ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১০ জনমায়ের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র গুলোতে স্বাভাবিক প্রসব প্রদানের এই হার খুবই হতাশাজনক।

এসব কেন্দ্র গুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। ১১ টিস্যাকমোর (সাব এ্যসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) পদ থাকলেও উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে মাত্র ৪ জন। ভিজিটর ২২ জনের মধ্যে আছে ১১ জন। এফডব্লিএ পদে ৬৫ পদেও বিপরীতে আছে ৪৭ জন। সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিট এর আওতায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলোতে ২৪ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন প্রসবকালীন সেবা প্রদান করার কথা। জনবল সংকটের কারনে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলোতে চব্বিশ ঘন্টা সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা।

মিরসরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, সরকার প্রদত্ত সকল সেবা প্রদানে আমরা আন্তরিক। কিন্তু জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যার কারনে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

যে সকল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলো পরিত্যক্ত রয়েছে সেগুলো পুননির্মানের জন্য ইতিমধ্যে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে দেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান হলে সকল সেবা প্রদান নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT