মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন - CTG Journal মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন - CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

        English
মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

মিনুসহ বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়েছে। রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় এ মামলার আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার।

আসলাম সরকার জানান, মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মোসাব্বিরুল ইসলাম মুখ্য মহানগর আদালতে এ মামলার আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়ে কোনও আদেশ দেননি আদালত।

মিনু ছাড়াও যাদের নামে মামলার আবেদন করা হয়েছে তারা হচ্ছেন– বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসসহ দলের চারজনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করেছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ আবেদন দেওয়া হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল আবেদন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আবেদন পেয়েছি। এটার এখন পরবর্তী বিষয়গুলো দেখা হবে।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ২ মার্চ বিএনপি রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে। মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাসহ নির্বাচিত সরকার উৎখাতের প্রকাশ্য ঘোষণা ও হুমকি দিয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ।

উল্লেখ্য, সমাবেশে আরেকটি আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করে মহানগর আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া আওয়ামী লীগ। নইলে মামলা করারও ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। আর ওয়ার্কার্স পার্টি মিনুকে গ্রেফতারের দাবি জানায়। আল্টিমেটামের ৭২ ঘণ্টা পর মিনু গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে ক্ষমা না চাইলেও নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলার আবেদন করা হলো।

আইনজীবী মুসাব্বিরুল ইসলাম বলেন, দণ্ডবিধির ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৩৪ ধারায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে তা আমলে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলে এটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে রেকর্ড হবে।

এদিকে, বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। নগরীর কুমারপাড়া দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ কমিশনার কাছে পাঠিয়েছেন। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড হবে।’ এ প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই-তিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

খায়রুজ্জামান লিটন জানান, গত ৩ মার্চ নগর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভায় মিজানুর রহমান মিনুসহ বিএনপি নেতাদের ক্ষমা চাইতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। গত ৬ মার্চ আল্টিমেটামের সময় শেষ হয়। এর মধ্যে গত ৭ মার্চ মিজানুর রহমান মিনু ক্ষমা না চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। ক্ষমা না চাওয়ায় নগর আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT