মানিকছড়িতে এক অসহায় গৃহীনির আর্তনাদ - CTG Journal মানিকছড়িতে এক অসহায় গৃহীনির আর্তনাদ - CTG Journal

মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রাষ্ট্র যখন ভাবমূর্তি সংকটে বেসরকারি খাতকে টিকা দেবে না সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন শুরু করলো বিএনপি, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে চায় না বাংলাদেশ বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০১৯ সালেই ‘পালায়’ পিকে হালদার সব ভালো কাজে সাংবাদিকদের পাশে চান রাঙামাটির নতুন ডিসি ইয়াবাপাচারকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক সুপারভাইজার হেলপারের কারাদণ্ড বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালা হচ্ছে মহালছড়িতে পাহাড় কাটার দায়ে জরিমানা সরকারি ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি মানিকছড়িতে শিশুর আত্মহত্যা করোনা আমাকে একরকম বন্দি করে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
মানিকছড়িতে এক অসহায় গৃহীনির আর্তনাদ

মানিকছড়িতে এক অসহায় গৃহীনির আর্তনাদ

আবদুল মান্নান, মানিকছড়ি : সুখের আশায় জন্মস্থান ছেড়ে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে শহরে এসেও সুখ দীর্ঘাস্থায়ী হলো না মোহাম্মদ চৌধুরীর! প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করে মানিকছড়িতে এসে এক যুগ অতিবাহিত করতে না করতেই হঠাৎ ছোট ছেলের পুরো শরীর অবশ হওয়ার মধ্য দিয়ে সংসারে নেমে আসে মানবিক বিপর্যয়ের হাতছানি।

ছেলের পুরো শরীর অবশে প্রতিবন্ধী রুপ ধারণ করার বছর চারেক পর মোহাম্মদ চৌধুরীও মিনি স্ট্রোকে জীবন অসাড় হয়ে পড়েন! ফলে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে মানিকছড়ি’র অসহায় মোহাম্মদ চৌধুরীর পরিবারে ! মানুষের দান-খয়রাতে নিভু নিভু জীবন প্রদীপে বহমান গৃহীনি এখন বেঁচে থাকার আর্তনাদ করছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৪ নং তিনটহরী ইউপি’র রাঙ্গাপানি এলাকার মোহাম্মদ চৌধুরীর জন্মস্থান চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাচিয়াপাড়া গ্রামে। পিতা মোহাম্ম্দ আলী ও মাতা মোহরা বেগমের সংসারে ২ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ চৌধুরী মেঝ। পিতার সংসার ছেড়ে সুখের দুঃস্বপ্ন নিয়ে ১৯৮০ সালে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ছুঁটে আসেন মোহাম্মদ চৌধুরী(৫৫)।

শ্রমিকের পেশায় চলা সংসারে একে একে চার পুত্র সন্তানের আগমন। হঠাৎ ২০০৮ সালের পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুতে সাজানো সংসার এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন মোহাম্মদ চৌধুরী। এক পর্যায়ে (২০০৬) নতুন সংসারে আরেকটি পুত্র সন্তানের আর্বিভাব।

ফলে ক্ষুদ্র আয়ে সংসার চালাতে বেগ পাওয়ায় ২০১১ সালে মানিকছড়িতে ছুঁটে আসা। এদিকে প্রথম সংসারের ৩ পুত্র সন্তান প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়েই শহরে গ্যারেজ ও মেইল-কারখানায় কর্ম যজ্ঞে লিপ্ত হয়।

ফলে দ্বিতীয় স্ত্রী জীবন নাহার ও পুত্র মোঃ আকাশকে নিয়ে নিকটাত্মীয়ের .১০ শতক জায়গায় বেড়া ঘরে সুখ খুঁজতে বসবাস শুরু করেন। কর্ম হিসেবে বেচে নেন সিএনজি চালক পেশা। কিন্তু কিছুতেই সুখ নামক সেই অধরা পাখিকে আপন করতে ব্যর্থ হন মোহাম্মদ চৌধুরী।

২০১৪ সালে ঊঠানে হোঁচট খেয়ে বাম হাতে ব্যাথা পান শিশু পুত্র মোঃ আকাশ। এ থেকেই ধীরে ধীরে শিশু আকাশের দু’হাত-দু’পা অবশ হতে থাকে। প্রথমে বিষয়টি তেমন আমলে না নিয়ে ব্যাথা-বেদনার ওষধ প্রয়োগ করলেও তাতে হিতে বিপরীত হয়ে অল্প সময়ে শিশু আকাশ পঙ্গুত্ববরণ করেন।

ধীরে ধীরে শিশু আকাশ বয়সে কিশোর(১৪) হলেও বাস্তবে সে চিরপ্রতিবন্ধী! মুখে দু’চারটা কথা বলার সাধ্য ছাড়া হাত-পা বা শরীরের কোন অঙ্গ-পতঙ্গ নাড়াছাড়া করার সাধ্য তার নেই!
এদিকে ২০১৭ সালে মোহাম্মদ চৌধুরীও মিনি স্ট্রোকে জীবন অসাড় হয়ে পড়েন! তার পুরো শরীর অবশ হয়ে টানা ৩ বছর এক বিছানায় (চৌকিতে) তার অমানবিক জীবন! একমাত্র মুখের বুলি ছাড়া শরীরে কোন অনুভুতি নেই।

ফলে ওই পরিবারের নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়! একমাত্র গৃহীনির বেচে থাকার আর্তনাদে প্রতিবেশিরা সাধ্য অনুযায়ী মাঝে-মধ্যে দান-খয়রাত দিলে চুলোয় আগুন জুটে।

একটি অসহায় পরিবারে অমানবিক জীবন প্রদীপের খবরে ২১ ফেব্রুয়ারী সকালে সরজমিন গিয়ে দেখা গেল অত্যান্ত অমানবিক বা বিপর্যস্ত পরিবেশে নিভু নিভু বহমান জীবন প্রদীপ নিয়ে গৃহীনি জীবন নাহার ক্ষণে পুত্র ও ক্ষণে স্বামীর সেবাযত্নে ব্যস্ত রয়েছে।

চুলোয় ঠিকমতো আগুন জ্বলে না প্রতিদিন! ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ স্থানীয় সমাজকর্মী মোঃ মাঈনুদ্দীনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সম্প্রতি গৃহীনি জীবন নাহারকে একটি ভিজিডি রেশন কার্ড করে দিয়েছেন। আর প্রতিবন্ধী পুত্র মোঃ আকাশ উপজেলা সমাজে সেবার মাধ্যমে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছেন।

এছাড়া সংসারে আয়-রোজগারের আর কোন উৎস নেই! ফলে বেঁচে থাকার একটু আকুতি(আর্তনাদ)করে জীবন নাহার বললেন, স্বামীর অভাবী সংসারে পুত্রের চিকিৎসায় একটু অবহেলা ও স্বামীর মিনিস্ট্রোকে আজ আমি মানবিক বিপর্যয়ে দিনাতিপাত করছি।

ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি ওই পরিবারের অসহায়ত্ব ও বিপর্যস্ততা দেখে মানবিক কারণে একটি ভিজিডি কার্ড এবং করোণাকালে কিছু ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এই অসহায় পরিবারের জন্য আর কিছু করা যায় কী না আমি সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT