মহামারিতে ৩৩ কোটিরও বেশি শিশু মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ - CTG Journal মহামারিতে ৩৩ কোটিরও বেশি শিশু মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ - CTG Journal

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
নতুন বছরে নতুন তরকারী হিসাবে পাহাড়ে কাঠাল খুবই প্রিয় সব্জি লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে যা জানালো বার কাউন্সিল ঈদের আগে লকডাউন শিথিল হবে মানিকছড়ি ভিজিডি’র খাদ্যশস্য সরবরাহে বিধিভঙ্গ করায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডি’কে শোকজ লকডাউনে মানিকছড়িতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, জরিমানা অব্যাহত চট্টগ্রামে দোকানপাট-শপিংমল খুলে দেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের না.গঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমিরসহ গ্রেফতার ৩ লকডাউন বাড়ানো হলো যে কারণে একদিনে প্রাণ গেল ১১২ জনের আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে ৬ চাঁদাবাজ আটক নাইক্ষ্যংছড়িতে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারনার অভিযোগে দুই যুবক আটক বান্দরবানে মারমা লিবারেশন পার্টির ২ সদস্য আটক, অস্ত্র ও কাতুর্জ উদ্ধার
মহামারিতে ৩৩ কোটিরও বেশি শিশু মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ

মহামারিতে ৩৩ কোটিরও বেশি শিশু মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: ইউনিসেফ

দেশব্যাপী জনস্বাস্থ্য নির্দেশনার কারণে ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছে প্রতি সাতজনে অন্তত একজন শিশু। বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একাকী, ভীতসন্ত্রস্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে দিন যাপন করছে তারা।ছবি: সংগৃহীত

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিগত নয় মাস ধরে ঘরে বন্দী বিশ্বের কোটি কোটি শিশু, এরফলে ৩৩ কোটিরও বেশি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।

দেশব্যাপী জনস্বাস্থ্য নির্দেশনার কারণে ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছে  প্রতি সাতজনে অন্তত একজন শিশু। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিশুরা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছে।

ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এলডার এব্যাপারে বলেন, “অসংখ্য শিশু এসময় বিচ্ছিন্ন বোধ করছে, মহামারির কারণে আরোপিত লকডাউন, আইসোলেশনের কারণে তারা একেবারেই একা হয়ে পড়েছে, তারা ভীতসন্ত্রস্ত, একাকী ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত,”

দেশগুলোর আরও উন্নত ও কার্যকর উপায়ে মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া উচিৎ বলে জানান তিনি। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য জনিত সমস্যার মতো বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দিয়েই এ কাজ শুরুর পরামর্শ দেন তিনি।

মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি 
 ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, প্রায় অর্ধেকের মতো মানসিক রোগই ১৫ বছরের আগেই শুরু হয়। প্রতি বছর আত্মহত্যার মাধ্যমে ৮ লাখ মানুষের মৃত্যুর তালিকায় বেশিরভাগের বয়সই ১৮’র চেয়ে কম।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ৯৩ শতাংশ দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কার্যক্রম মহামারির কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, “দিনের পর পর দিন বন্ধুবান্ধব ও পছন্দের মানুষদের থেকে দূরে থাকা, এবং বাড়িতেই সম্ভাব্য নির্যাতনকারী সঙ্গে বসবাসের ফলাফল ভয়ানক হতে পারে,”

“অনেক শিশুই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ভীতসন্ত্রস্ত, একাকী ও আতঙ্কগ্রস্থ তারা। ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা তো আছেই। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি মনোযোগ দিয়েই মহামারি থেকে উত্তরণের পথে এগোতে হবে আমাদের,” বলেন তিনি।

বাড়িতেই নির্যাতন ও অবহেলার শিকার অনেক শিশু লকডাউনের ফলে নির্যাতনকারীর সঙ্গেই বাড়িতে বন্দী হয়ে পড়েছে। অত্যধিক ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা- রাস্তায় যাদের বসবাস ও কাজের ক্ষেত্র, শারীরিক জটিলতা ও অক্ষমতা আছে যাদের এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস যাদের- তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, মহামারির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন বেড়ে গেলেও, বিশ্বের ৯৩ শতাংশ দেশে মহামারির প্রভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। 

ইউনিসেফের সাহায্য 

ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনে সাড়া দিতে শিশুদের সেবা সংক্রান্ত বিষয় অগ্রাধিকার দিতে দেশগুলোর সরকারকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে ইউনিসেফ।

কাজাখস্তানে ইউনিসেফের কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রশিক্ষণসহ অনলাইনে কাউন্সেলিং পরিষেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চীনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠান কুয়াইশুর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে সংস্থাটি, শিশুদের দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখতে অনলাইন চ্যালেঞ্জ তৈরিতে কাজ করেছে ইউনিসেফ ও কুয়াইশু।

করোনাভাইরাস মহামারির ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংস্থাটির এবছরের ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস চিল্ড্রেন’ প্রতিবেদনের বিষয় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি

“কোভিড-১৯ মহামারির আগে এবিষয়ের তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা না গেলেও এখন বুঝতে পারছি আমরা,” বলেন হেনরিয়েটা।

“মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রসার, তরুণদের ও তাদের বিদ্যালয়ে তাদের সেবায় নিয়োজিত সবাইকে সহযোগিতার জন্য সব দেশকেই বিপুল হারে বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিরাপত্তা পায় তা নিশ্চিত করতে প্যারেন্টিং কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে।” যোগ করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT