ভ্যাকসিন পেতে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আবদারে অরাজকতার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের - CTG Journal ভ্যাকসিন পেতে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আবদারে অরাজকতার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের - CTG Journal

শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন- ডা. শাহাদাত এইচএসসির ফরম পূরণ ২৯ জুন থেকে শুরু স্থিতিশীল বঙ্গোপসাগর-ভারত মহাসাগর দেখতে চায় বাংলাদেশ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০৮ জনের ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় ইউরোপগামী ২৬৪ বাংলাদেশি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতকে বদলে দিতে কোভিড-১৯ এর ৪ অবদান মাদকাসক্তদের ৮০ ভাগই কিশোর করোনা ভয়ঙ্কর/ চট্টগ্রামে ৫ মৃত্যুর সঙ্গে শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ হাসপাতাল থেকে যেমন এসেছেন ‌‘তেমনই’ আছেন খালেদা জিয়া ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে সরকারি চাকরি মিলবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি পর্যায়ে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার অনুমোদন দিচ্ছে সরকার চন্দ্রঘোনায় আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ভ্যাকসিন পেতে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আবদারে অরাজকতার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

ভ্যাকসিন পেতে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আবদারে অরাজকতার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

প্রাইভেট সেক্টর ভ্যাকসিন আমদানি করে বিক্রির অনুমতি চাইতে পারে কিন্তু সরকারের কেনা ভ্যাকসিন তারা বিক্রি করবে এ আবার কেমন আবদার!ছবি রয়টার্সের সৌজন্যে

ভ্যাকসিনেশন শুরুর ৫ দিনে দেশে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৫,৪২,৩০৯ মানুষ। সরকারের যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে প্রতিদিন তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিতে পেরে যখন সব শ্রেণি পেশার মানুষ সন্তুষ্ট তখন প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সরকারের কাছে টাকার বিনিময়ে ভ্যাকসিন দেয়ার অনুমতি ও সরকারের কেনা ভ্যাকসিন থেকে দশ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন চেয়েছে বিক্রির জন্য।  

বুধবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মুবিন খান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের আবেদন ভ্যাকসিনেশনে বেসরকারি হাসপাতালকে যেন সম্পৃক্ত করা হয়। সরকারের হাতে ৭০ লাখ ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে, আরো ৫০ লাখ ডোজ আসবে। সেখান থেকে প্রাইভেট সেক্টরকে যদি প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ ডোজ দেয়া হয়, আমরা মূল্য পরিশোধ করে দেবে। যারা সচ্ছল ও ধনী তারা বেসরকারি পর্যায় থেকে টিকা নেবেন। তবে সরকার থেকে এই টিকার মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। আর যারা বিনামূল্যে টিকা নিতে চান তারা সরকারিভাবে টিকা নেবেন’।

বেসরকারি হাসপাতালের এ আবদারে অবাক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালকে ভ্যাকসিন বিক্রির দায়িত্ব দিলে অরাজকতার শঙ্কাও তাদের। 

ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এবং মানুষ ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী- এটা দেখে এখন প্রাইভেট হাসপাতালগুলো ব্যবসা করতে ভ্যাকসিনেশনের জন্য এগিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন ভাইরোলজিস্ট এবং কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। 

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালকে ভ্যাকসিনেশনের দায়িত্ব দিলে তারা ব্যবসা করবে। তারা বিভিন্ন ধরণের সার্ভিস চার্জ নিবে’। 

তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টর ভ্যাকসিন আমদানি করে বিক্রির অনুমতি চাইতে পারে কিন্তু সরকারের কেনা ভ্যাকসিন তারা বিক্রি করবে এ আবার কেমন আবদার? মানুষ যেখানে ফ্রি-তে ভ্যাকসিন নিচ্ছে, সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা আছে তাহলে তাদের ব্যবসার জন্য কেন ভ্যাকসিন দেয়া হবে?’

প্রাইভেট সেক্টরকে ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলে কোল্ড চেইন ঠিকমত নিয়ন্ত্রিত হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম মুশতাক হোসেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টরে ভ্যাকসিন দিতে দিলে বৈষম্য শুরু হবে। প্রাইভেট খাতের প্রভাবে সার্বজনীন টিকাদান কর্মসূচী বাধাগ্রস্থ হবে। প্রাইভেট খাতকে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুমতি দেই। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের দায়িত্ব তাদের দেয়া উচিত নয়। আর সরকার যদি তাদের ভ্যাকসিন দেয়ও তাহলেও সেটি এখন নয়। আগে ফ্রন্টলাইনার্সদের ভ্যাকসিন দেয়া হোক তারপর নীতিমালা করে তাদের ভ্যাকসিন দেয়ার দায়িত্ব দিতে পারে’।  

কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণে সাধারণ মানুষের উৎসাহ বাড়ছে। জাতীয় টিকাদানের পঞ্চমদিনে টিকা নিয়েছেন ২,০৪,৫৪০ জন। 

এদের মধ্যে, ১,৪০,১৫২ জন পুরুষ এবং ৬৪,৩৮৮ জন নারী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য জানায়। 

তবে টিকাগ্রহণের পর ৮৬ জনের মধ্যে তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। 

এখন যেভাবে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে তাতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সব ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হবে কি না এ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুবিন খান।

তবে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর টিবিএসকে বলেন, ‘এখন দিনে দুই লাখের মত রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। মানুষ যেভাবে ভ্যাকসিন নিচ্ছে তাতে আমরা এক মাসের মধ্যে ৭০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে পারব’। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,ইপিআইয়ের শিশুদের ভ্যাকসিন ফ্রি নিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সাড়ে তিন হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা নেয় সার্ভিস চার্জের নামে। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিয়েও তারা একই পরিকল্পনা করছে। প্রাইভেট হাসপাতালে সরকারের কেনা ভ্যাকসিন তারা সার্ভিস চার্জসহ ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি করবে বলে ধারণা তাদের। 

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সরকারিভাবে গণ-টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ৩৫ লাখ নাগরিককে প্রথম ধাপে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।  এ পর্যন্ত মোট ৫,৪২,৩০৯ জনকে সারাদেশে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। 

সারা দেশের ১০০৫টি কেন্দ্রে টিকাদান চলছে।  সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো ব্যতীত ২,৪০০টি দল প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নাগরিকদের টিকাপ্রদানের সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের এ টিকাদান কর্মসূচী চলবে ৭ই মার্চ পর্যন্ত। 

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT