ভাড়ায় মামলা করেন তিনি! - CTG Journal ভাড়ায় মামলা করেন তিনি! - CTG Journal

বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কাদের মির্জার ভাই ও ছেলেসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব: আরও ৭ গ্রেফতার সমঝোতা নয় হেফাজতকে শক্তভাবে দমনের দাবি লকডাউনে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ চলবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট লোহাগাড়ায় একদিনেই ৩৩ জনকে জরিমানা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে নুরের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ৬ জুন সালথা তাণ্ডব: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেফতার বাঁশখালীতে ‘শ্রমিকরাই শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করেছে’! প্রাথমিক শিক্ষকদের আইডি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস ‘নারী চিকিৎসকের প্রতি পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখা যায়নি’ চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ২৪ এপ্রিল মিকনকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে: কাদের মির্জা
ভাড়ায় মামলা করেন তিনি!

ভাড়ায় মামলা করেন তিনি!

নিজেকে কখনও সাংবাদিক আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেন তিনি। মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে একটি নামস্বর্বস্ব অনলাইনের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি এডিট করে নিজের ছবি বসিয়েছেন। এসব পরিচয় কাজে লাগিয়ে ভাড়ায় মামলা করেন তিনি। কারও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মামলা করাই তার পেশা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে শতাধিক ভুয়া মামলা করেছেন তিনি। মামলা দায়েরের পর আপসের নামে হাতিয়ে নেন বিপুল অঙ্কের টাকা। অভিনব এই প্রতারকের নাম আজিজুল হক পাটোয়ারী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। মনোয়ারা বেগম নামে এক নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার খিলগাঁও এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের খিলগাঁও জোনাল টিম তাকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ন কমিশনার মাহবুব আলম জানান, মনোয়ারা বেগম নামে এক নারী এই প্রতারকের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে আজিজুল হক পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সারাদেশে তার একটি মামলাবাজ সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার আয়নাতলীর মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয় আজিজুল হক পাটোয়ারীর। পরিচয়ের সূত্র ধরে মনোয়ারা বেগমের পাওনা টাকা উদ্ধারে সহযোগিতার কথা বলে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। সেই টাকা ফেরত চাইলে ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ নারী পাচারকারী, ইয়াবা ব্যবসায়ী, দেহ-ব্যবসায়ীসহ নানা মিথ্য অভিযোগে ৫টি মামলা করেন তিনি। পরবর্তীতে সবগুলো মামলাতেই খালাস পান মনোয়ার বেগম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু মনোয়ারা বেগমই নন, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ আজিজ পাটোয়ারির এমন মিথ্যা মামলায় জেল খাটার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হযেছেন। আজিজুল হক বাদি হয়ে দায়ের করা ২৪টি মিথ্যা মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, মামলাগুলোর ভাষা প্রায় একইরকম। শুধু আসামীর জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নাম ও ঘটনাস্থল। আজিজুল হক পাটোয়ারীর এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যও জড়িত রয়েছে। মামলা দায়েরের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে আসামীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে।

জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় আজিজুল হক পাটোয়ারী  তাকে ও তার সহযোগী সোহানকে মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে আসামী করা হয়। এরপর ওই মামলায় চাঁদপুরের বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও হোটেল ব্যবসায়ী ইমাম হোসেনকে ধরতে যায় পুলিশ। জানতে চাইলে সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, বাদী তদন্ত কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়েছিল। পরে তদন্তে মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হওয়া আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

ভূক্তভোগি মাদ্রাসা শিক্ষক ইকবাল হোসেন জানান, আজিজুল হক পাটোয়ারী তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১১টি মিথ্যা মামলা দায়ে করেছেন। এছাড়া তার ছেলে আবু ইউসুফ পাটোয়ারি বাদি হয়ে ৩টি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দফতরে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৯২টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। মূলত এলাকার একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রার্থী হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ গ্রুপ আজিজুল হক পাটোয়ারীকে দিয়ে এসব মামলা ও অভিযোগ করায়। ইকবাল হোসেন জানান, বিভিন্ন মামলায় যে সময়ে তাকে মারধর বা মালামাল ছিনতাইয়ের দাবি করা হয়েছে, সেই সময়ে তিনি মাদ্রাসার প্রশিক্ষণে পাশের জেলায় উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৮ সালের ৪ আগষ্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সৈকত পালসহ চারজনকে আসামী করে একটি মামলা (মামলা নম্বর ৮/৩৩০) দায়ের করেন আজিজুল হক পাটোয়ারী। একই অভিযোগে ওই বছরের ২৭ আগষ্ট রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় আরেকটি মামলা (নম্বর ৪৫/২৮৬) করেন তিনি। ওই মামলাতেও আসামী করা হয় সৈকত পালকে। এর দুই দিন পর পল্টন থানায় সৈকত পালের বিরুদ্ধে (মামলা নং ৪৯/৪০৬) আরেকটি মামলা দায়ের করেন। প্রতিটি মামলাতেই সৈকত পালের বিরুদ্ধে মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী সৈকত পাল জানান, তিনি লিমা সাহা নামে এক তরুণীকে প্রেম করে বিয়ের করার কারণে তার শ্বশুর সুধীর সাহা আজিজুল হক পাটোয়ারীকে দিয়ে ভাড়ায় এই মামলাগুলো করিয়েছেন। আদালত সবগুলো মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, আজিজুল হক পাটোয়ারীর বাদি হয়ে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলোর স্বাক্ষী ঘুরেফিরে কয়েকজনকেই বানানো হয়। এরা সবাই তার সিন্ডিকেটের সদস্য। এর মধ্যে ছেলে আবু ইউসুফ পাটোয়ারি, সহযোগি সোহান ও আরিফুল ইসলাম, ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া, ছোট ভাই আলমগীর ও ভাতিজা জামাল উল্লেখযোগ্য। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারী প্রতারণা, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে পুলিশ আজিজুল হক পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করেছিল। জামিনে বের হয়ে এসে সে আগের মতোই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও ভাড়ায় মামলা করে দেওয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। তার অপর সহযোগীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT