ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের - CTG Journal ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের - CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা খালেদা জিয়ার আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক সত্যজিৎ এর উপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে উত্তাল খাগড়াছড়ি রাউজানে খাবার হোটেলে স্বাস্থ্য বিধি অমান্য, জরিমানা এতিমদের সম্মানে সানরাইজ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া রাউজানে ৪০ জন কৃষক পেল ২০ লক্ষ টাকার কৃষি ঝণ রাউজানে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে ঈদের আগে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকতে হবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের লামায় ৩০০জন কর্মহীন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপহার প্রদান মহালছড়ি সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় মানবিক সহায়তা রামগড়ে হিমাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত পণ্য, ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক
ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ভারতের ভ্যারিয়েন্ট দেশে আসলে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বাংলাদেশ ও ভারতের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোটামুটি একই রকম ছিল। ভারত-বাংলাদেশে সংক্রমণ একই সময় বেড়েছে-কমেছে। এখন ভারতে করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশেও আজ থেকে মার্কেট খুলে যাচ্ছে, শিগগিরই গণপরিবহন চালু করে দেয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এমনিতেই বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, আর ভারতের ভ্যারিয়েন্ট যদি দেশে আসে তাহলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ তাদের। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা জানালেন, ‘ভারতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইউকে ভ্যারিয়েন্ট ও ভারতের ডাবল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট একযোগে চালাচ্ছে এই ধ্বংসযজ্ঞ। তরুণ, কিশোর, শিশু কেউ বাদ পড়ছেনা মারাত্মক কোভিড-১৯ সংক্রমণের হাত থেকে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরেকটি দুঃসংবাদ। ট্রিপল মিউটেশন ভ্যারিয়েন্ট বা B.1.618 এর আবির্ভাব ঘটেছে। এই ভ্যারিয়েন্টটি তীব্র সংক্রামক, এমনকি মারাত্মকও হতে পারে’।    

ডা. নুসরাত সুলতানা বলেন, ‘আমাদের জন্য উদ্বেগজনক যে, নতুন ভ্যারিয়েন্টটির উৎস পশ্চিমবঙ্গ। তাই ভ্যারিয়েন্টটির নাম “বেঙ্গল স্ট্রেইন”। ১৩০টি জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ১২৯টি পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে। ইতোমধ্যে সারা বিশ্ব ভারতকে রেড লিস্টে রেখেছে। অর্থাৎ এই সংকটকালীন সময়ে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ভারত থেকে আগত- প্রস্থানের সকল ফ্লাইট বাতিল করেছে। বাংলাদেশেরও উচিত এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে অবলম্বন করা’।

শনিবার ইরান জানায়, তারা কোভিড-১৯ এর বিস্তাররোধে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে। দেশটিতে ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি বলেন, ‘ভারতীয় করোনাভাইরাস আমাদের জন্য একটি নতুন হুমকি;।

তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলের সকল প্রদেশের নিশ্চিত করা উচিত ভাইরাস সংক্রমিত লোকজন যেন সীমান্ত পাড়ি না দেয়’।   ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সীমান্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাথে। দর্শনার্থীরা উপসাগরীয় পথেও রান ভ্রমণ করতে পারেন। 

এদিকে পরপর তৃতীয় দিনের মত ভারতে করোনায় সংক্রমণ ছাড়িয়েছে তিন লাখের ওপর। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার জন। ভারতে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৬৬ লাখেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত আমাদের কাছের প্রতিবেশী দেশ এবং এর সাথে সীমান্তগুলোও সীমিতভাবে চালু রয়েছে তাই দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট যেকোন সময় চলে আসতে পারে, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সেকেন্ড ওয়েভে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি এমনিতেই খারাপ। হাসপাতালের শয্যা, আইসিইউ বাড়িয়েও পরিস্থিতি মোকবিলায় হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  

জাতীয় প্রযুক্তি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট প্রফেসর নজরুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, ‘ভারতের ভ্যারিয়েন্ট যাতে দেশে প্রবেশ না করে বা ছড়িয়ে না যায় সেজন্য ভারত ফেরতদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করতে হবে’। 

দুই সপ্তাহ পর সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে

গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউনের কারণে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার কিছুটা কমে এসেছে। সংক্রমণ হার  ২৪% থেকে কমে ১৩% নেমে এসেছে। লকডাউনের কারণে আগামী কয়েকদিন  সংক্রমণ হার কম থাকতে পারে। তবে দুই সপ্তাহ পর  সংক্রমণের মাত্রা আবার বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমো (কোভিড -১৯ মডেলিং) কনসোর্টিয়াম দলের সদস্য অধ্যাপক শফিউন শিমুল বলেন, সংক্রমণ হার এখন ধীর হয়েছে তবে মার্কেট খুলছে, হয়তো আর লকডাউন থাকছে না। তাই এখন সংক্রমণ গতি ধীর হলেও দুই সপ্তাহ পর আবার সংক্রমণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের ভ্যারিয়েন্ট আমাদের দেশে না আসাটা খুবই অস্বাভাবিক। যদি ভারতের ভ্যারিয়েন্ট দেশে আসে তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে’। 

শফিউন শিমুল বলেন, ‘আমাদের মডেলিং বলছে মে মাসের শেষে বা জুন মাসের মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশে পিক টাইম আসতে পারে। টেস্ট বেশি করা হলে পিক টাইমে দিনে ১২০০০ রোগী শনাক্ত হতে পারে’।  

বাংলাদেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তেরো মাসেও পরিকল্পিত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সংক্রমণ বাড়লে হঠাৎ লকডাউন দেয়া হয় আবার ব্যবসায়ীদের চাপে বা গরিব মানুষদের জীবিকার জন্য হঠাৎ সব খুলেও দেয়া হয়।

শফিউন শিমুল বলেন, ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের সব সময় বাইনারি পদক্ষেপ নেয়া হয়। কখনো লকডাউন আবার কখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক। নতুন স্বাভাবিক বিবেচনা করে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একেবারে নয় আস্তে আস্তে সব খুলে দিতে হবে এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে’।  

লকডাউনে সংক্রমণ কমে

লকডাউন কিংবা কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দেশে সংক্রমণ কমেছে। করোনা সংক্রমণের পর থেকে এপিডেমিওলজিক্যাল পর্যালোচনা করে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক সপ্তাহ ধরে রোগটির কোন সূচকে কী পরিবর্তন হয়, তা এই পর্যালোচনায় উঠে আসে। নমুনা পরীক্ষা, শনাক্ত, সুস্থতা ও মৃত্যু- এ চারটি সূচক ধরে এই রোগতাত্ত্বিক পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে লকডাউনের আগের তুলনায় লকডাউন দেয়ার পর সংক্রমণ কমেছে।

বিধিনিষেধ জারির আগে ২০ মার্চ ১১তম সপ্তাহের এপিডেমিওলজিক্যাল পর্যালোচনায় দেখা যায়, দশম সপ্তাহের তুলনায় ১১তম সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা ২০.৪৯% বেড়েছিল। এতে শনাক্ত ৯১.৪৯%, সুস্থতা ২৪.৭৪% এবং মৃত্যু ৮৫.৫৩% বৃদ্ধি পেয়েছিল। 

গত ১১ দিনের লকডাউনের পর শনিবার ১৬তম সপ্তাহের এপিডেমিওলজিক্যাল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৫তম সপ্তাহের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা ২.৪০% হ্রাস পেয়েছে। এতে শনাক্ত ২৫.২৪% কমেছে, সুস্থতা ২১.৬৮% বেড়েছে এবং মৃত্যু ৭.৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ‘৫ এপ্রিলের বিধি-নিষেধের পর থেকে সংক্রমণ কমেছে। চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে তাই এখন আরো সতর্ক হতে হবে। ভারত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অক্সিজেনের সুষম বন্টন করতে হবে যাতে সারাদেশের সবাই অক্সিজেন পায়’।  

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT