বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ হবে না - CTG Journal বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ হবে না - CTG Journal

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
নতুন বছরে নতুন তরকারী হিসাবে পাহাড়ে কাঠাল খুবই প্রিয় সব্জি লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে যা জানালো বার কাউন্সিল ঈদের আগে লকডাউন শিথিল হবে মানিকছড়ি ভিজিডি’র খাদ্যশস্য সরবরাহে বিধিভঙ্গ করায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডি’কে শোকজ লকডাউনে মানিকছড়িতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, জরিমানা অব্যাহত চট্টগ্রামে দোকানপাট-শপিংমল খুলে দেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের না.গঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমিরসহ গ্রেফতার ৩ লকডাউন বাড়ানো হলো যে কারণে একদিনে প্রাণ গেল ১১২ জনের আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে ৬ চাঁদাবাজ আটক নাইক্ষ্যংছড়িতে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারনার অভিযোগে দুই যুবক আটক বান্দরবানে মারমা লিবারেশন পার্টির ২ সদস্য আটক, অস্ত্র ও কাতুর্জ উদ্ধার
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ হবে না

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপ হবে না

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর ভ্যাট বসানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করছে, তাদের ভ্যাটের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। ভ্যাট বসানোর বিষয়ে কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকে সেটি একান্তই তার নিজস্ব মত, সরকারের নয়।’ গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, গত রবিবার গভীর রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করেছে, তারা কেউ সাধারণ শিক্ষার্থী নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘ভিসির বাসভবনে হামলার মতো ন্যক্কারজনক কাজ সাধারণ শিক্ষার্থী করতে পারে না। এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করতে আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। জড়িতদের ধরে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি ফেলোশিপ প্রকল্প আনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফেলোশিপ কেন আমার নামে? এটি হবে প্রধানমন্ত্রীর (পদ) নামে। ব্যক্তিগত নামে নয়।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর ভ্যাট বসানো নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয় গত সোমবার রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলেচনার একপর্যায়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসছে অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর ভ্যাট বসানো হবে। এই ভ্যাট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিভাবে আদায় করা হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গতবার শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট বসানো যায়নি। তবে এবার যেভাবেই হোক ভ্যাট বসানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের কোনো কথা শোনা হবে না। তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিভাবে ভ্যাট আদায় করবেন, সেটি তাঁদের বিষয়। অর্থমন্ত্রী এমন একসময় ভ্যাট নিয়ে বক্তব্য দিলেন, যখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে। নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য চলমান আন্দোলনকে আরো উসকে দিতে পারে। তাই একনেক সভায় অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে বিষয়টি।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, সভায় ভ্যাটের বিষয়টি তিনি প্রথম উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট বসানোর বিষয়টি এ মুহূর্তে বলা ঠিক হয়নি। এ সময়ে এমন মন্তব্য ছিল অপ্রাসঙ্গিক।’ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। সবার কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কেন ভ্যাটের বিষয় আলোচনায় আসছে। সরকারের তো কোনো সিদ্ধান্ত নেই ভ্যাট বসানোর বিষয়ে। ভ্যাটমুক্ত থাকবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।’

একনেক বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভেতরে বলেছেন, আপাতত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের ভ্যাট আরোপ করা হবে না।

গতকাল একনেক সভায় ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ নামের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় শেখ হাসিনা ফেলোশিপের নামে ১২৫ পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফেলোশিপের আওতায় ২৫০ জন সরকারি কর্মকর্তা মাস্টার্স করবেন। এ ছাড়া ৬৭ সরকারি কর্মকর্তাকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, ১৬০ কর্মকর্তাকে দেশের বাইরে সংক্ষিপ্ত কোর্স এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭২০ জনকে সংক্ষিপ্ত কোর্স করানো হবে। ওই প্রস্তাব দেখার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার নামে এই ফেলোশিপ কেন। এটা হবে প্রধানমন্ত্রীর নামে। ব্যক্তির নামে নয়।’ প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে শুধু ফেলোশিপ নামে অনুমোদন দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT