বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ’

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ’

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট
১১টি অভিযোগ উঠেছে, যার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

শনিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরে বিবৃতিটি আসার আগে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন।

ছুটি নিয়ে বিচারপতি সিনহা বিদেশে যাওয়ার আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ আখ্যায়িত করে সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিটি দেওয়া হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সংসদে দুই মন্ত্রী বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার তার সহকর্মীদের মধ্য থেকেও একই অভিযোগ এল।

সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন।

“দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন। তন্মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ আরও সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।”

ওই বৈঠকে বিচারপতি ঈমান আলী ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য চার বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার ছিলেন। বিচারপতি ঈমান আলী সেদিন ঢাকায় ছিলেন না।

বঙ্গভবনের বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিজেরা বৈঠক করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন যে গুরুতর অভিযোগগুলো প্রধান বিচারপতিকে জানানো হবে। তিনি যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না।

ওই দিনই পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে যান।তার সঙ্গে অভিযোগগুলো নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, “কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সুদত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই অবস্থায় অভিযোগসমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না।

“এই পর্যায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে ২/১০/২০১৭ তারিখে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান।”

কিন্তু এরপর বিচারপতি সিনহা সহকর্মীদের কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার কথা জানান বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার দেন রাষ্ট্রপতি।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT