বিএনপির সিরাজের বক্তব্যে সংসদে হইচই - CTG Journal বিএনপির সিরাজের বক্তব্যে সংসদে হইচই - CTG Journal

বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কারাবন্দি মুশতাকের মৃত্যু: তদন্ত কমিটির সময় বাড়লো টেলিটকসহ ৪ অপারেটরই তরঙ্গ নিলামে অংশ নিচ্ছে নিউজিল্যান্ডে এবার নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ! নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই: সেই তিন পুলিশ সদস্য ২ দিনের রিমান্ডে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন বিএনপি এখন মুসলিম লীগ, সত্যি? বিদেশি চকলেটের প্যাকেটে ইয়াবা পাচার দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিরা চসিকের বই মেলা ২৩ মার্চ থেকে আরও টিকা কেনা হবে, টাকা প্রস্তুত রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী ‘রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই আওয়ামী সরকারকে উৎখাত করতে হবে’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ মার্চ পালনের নির্দেশ, পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক
বিএনপির সিরাজের বক্তব্যে সংসদে হইচই

বিএনপির সিরাজের বক্তব্যে সংসদে হইচই

বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বক্তব্যের জবাব দিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। জিএম সিরাজের বক্তব্যে সংসদে হইচই হয়।

রবিবার (৩১ জানুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বগুড়ার সংসদ সদস্য সিরাজ সরকারের সমালোচনা করেন। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা এ সময় কয়েকদফা প্রতিবাদ জানান।

বক্তব্যের শেষে সিরাজ হইচইয়ের জবাবে গণতান্ত্রিক আচরণের আহ্বান জানালে আরও হইচই হয়। ডেপুটি স্পিকার এ সময় সরকারি দলের সদস্যদের চুপ থাকার আহ্বান জানান।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ তার বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ না করায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে পারছি না।’ এসময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা তার কথার প্রতিবাদ জানান।

সিরাজ বলেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা-ধর্ষণ নিয়ে কোনও কথা বলেননি এবং দিক নির্দেশনা দেননি বলে আমি তাকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না।’

স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতের সমালোচনা করে সিরাজ বলেন, ‘টাকা পাচারকারীরা অদৃশ্য ও অধরা রয়ে গেছে। এদের পৃষ্ঠপোষক কারা? এরা সবাই সরকারের মদদপুষ্ট, সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বেসিক ব্যাংকের আব্দুল হাই বাচ্চু থেকে আজকের প্রশান্ত কুমার হালদার পর্যন্ত সরকারের ঘনিষ্ঠ।’

সরকারের ঘনিষ্ঠ লোককে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদের সদস্য পাপুল, যাকে ঘুষের দায়ে কুয়েত সরকারের বিচার বিভাগ জেল দিয়েছে। পাপুল শুধু সংসদ নয়, এই দেশকে কলঙ্কিত করেছে। অর্থপাচার মামলায় রায় আরও কঠিন হবে। দুর্নীতির কালোবিড়াল কোথায় নেই?’

আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে বিএনপির সংসদ সদস্য সিরাজ বলেন, ‘সরকারি দলের সর্বস্তরের নেতারা গ্রাম পর্যায়ে ইউনয়িন থেকে রাজধানী পর্যন্ত সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। বিচারহীন দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। চলমান সংসদেও এক ডজন সংসদ সদস্য দুর্নীতি, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল, বিদেশে অর্থ পাচার, মানবপাচারে জড়িত। তাদের কোনও জবাবদিহিতা নেই।’

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার  তাদের শান্ত হতে অনুরোধ করে বলেন, ‘তাকে বলতে দেন। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হলে উত্তর দেবেন।’ 

সরকারে অধীনে বিভিন্ন নির্বাচনের কথা তুলে ধরে সিরাজ বলেন, ‘ভোটের মালিক পুলিশ, প্রশাসন আর নির্বাচন কমিশন। ভোট মানে উইং সার্টিফিকেট।’

‘হাজার কোটি টাকা, জনগণের অর্থ ব্যয় করে প্রহসনের নির্বাচন করে কী লাভ? একনায়কতন্ত্র আর গণতন্ত্র দুটো পরস্পর বিরোধী। বর্তমান সরকারকে যেকোনও একটি পথ বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের মিথ্যা বুলি বাদ দিয়ে অঘোষিত বাকশাল পন্থা পরিহার করে, সরাসরি বাকশাল সরকার গঠন হোক। নতুবা দেশের মালিক জনগণকে দেশটি ফিরিয়ে দিন। ফিরিয়ে দিন মানুষের অধিকার, মানুষের স্বাধীনতা।’

রাষ্ট্রপতি শুধু পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ নন তিনি আমাদের অভিভাবক। তিনি রাষ্ট্র্রের অভিভাবক। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সফলতার কথা বলেছেন। আমিও বলি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই, গণতন্ত্র আর সুশাসন বাদ দিয়ে সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই। জনগণ রাষ্ট্রপতির মুখে সত্য ভাষণ শুনতে চায়। তার মুখে সত্যের অপলাপ শুনতে চায় না।’

সিরাজের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে হইচই করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। এ সময় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজ বলেন, ‘আমার সহকর্মীরা অযথা হইচই করছেন। জনগণ আমাদের কথা শুনতে চায়। সংখ্যায় কম হলেও শুনতে চায়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা রেখে, মাননীয় স্পিকার আপনাকে শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, এই প্রাকটিস আগে দেখিনি। আমি ৯৬ সালে এমপি ছিলাম। তখনও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। তখন এমন ছিল না। এইবার এসে কী দেখলাম। শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, এটা ব্যাড প্রাকটিস। আওয়ামী লীগের পলিটিক্যাল ক্যারেক্টার চেঞ্জ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে যাক মানুষের কাছে। ফিরে যাক ভালোবাসার কাছে। ভয়ভীতির চর্চা বাদ দিয়ে মানুয়ের ভালোবাসা অর্জন করুক। আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী আছেন সামনে। আসুন, আমরা ফিরে যাই জনগণের কাছে।’

এ সময় আওয়ামী লীগের সদস্যরা তার কথার প্রতিবাদ জানান।

সিরাজের বক্তব্য শেষ হলে সরকারি দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে থাকলে ডেপুটি স্পিকার তাদের শান্ত হতে অনুরোধ করে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য সিরাজ সাহেব মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে ২-১টি কথা বলেছেন। সেটি সঠিক নয়। আমি চিন্তা করে দেখবো এক্সপাঞ্চ করা যায় কিনা।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনি চর্চার কথা বললেন। এই চর্চা আপনারা ওই গ্যালারি থেকে… থুথুর চর্চা আমার গায়ে দেখিয়েছিলেন। ৯০-৯১, ২০০১ সালে। গায়ে থুথু দিয়েছিলেন। আমি তখন আওয়ামী লীগ করিনি। জাতীয় পার্টি করতাম। আই অ্যাম কনফেসিং। যেহেতু আমি বিএনপিকে অ্যাটাক করে বক্তব্য দিয়েছিলাম, আমার গায়ে থুথু দেওয়া হয়েছিল। এই প্রাকটিসও আপনারা দেখিয়েছেন। সকলকে অনুরোধ করবো, সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য সহনশীলতা থাকতে হবে। আপনি হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে একটি কথা বলবেন, আর আমরাও পাল্টা উত্তর দেবো, এটা গণতন্ত্রের ভাষা না। সুতরাং, গণতন্ত্রের ভাষা যদি আপনি পেতে চান, আপনাকেও গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলতে হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT