মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
বাণিজ্য মেলায় থাকছে ১৮ দেশের ৫৪০টি স্টল

বাণিজ্য মেলায় থাকছে ১৮ দেশের ৫৪০টি স্টল

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৩তম আসরের কাজ অনেকটাই শেষের পথে। এবার বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে ১৭টি দেশ। এগুলো হলো— ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, ভিয়েতনাম, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও হংকং। এবার থাকছে ৫৪০টি স্টল। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠান। সে হিসাবে এবার স্টল কমছে ৪৪টি।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেলার সার্বিক প্রস্তুতি এগোচ্ছে খুব দ্রুত। এরই মধ্যে ৯০ ভাগ স্টল বরাদ্দের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তারাই যৌথভাবে এ মেলা আয়োজন করছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাকি বরাদ্দের কাজ শেষ হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের গণপূর্ত বিভাগের খোলা জমিতে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০১৮ সালের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

গত বছরের মেলায় ৮০ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারের মেলায় এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আয়োজকদের আশা।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রফতানি বাণিজ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। দেশীয় পণ্যের স্থানীয় ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল থাকবে এবার। সব মিলিয়ে অতীতের যে কোনও বছরের তুলনায় আকর্ষণীয় হবে এই মেলা।

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, এখন মেলা প্রাঙ্গণে অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ চলছে। এবারের মেলায়ও থাকছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহার সামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিকের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্রের স্টল।

ইপিবি’র একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবারের (২২ ডিসেম্বর) মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় বরাদ্দ পাওয়া স্টল মালিকদের। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাজানোর কাজ শেষ না করতে পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে ইপিবি।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এবারের মূল ফটকের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি সাজানো হচ্ছে ঢাকা গেটের আদলে। এখানে দূর থেকে দেখা যাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। মেলার আয়োজক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

গত কয়েক বছর বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক সাজানো হয়েছিল কার্জন হলের আদলে। তবে এবার মূল ফটকে পরিবর্তন এনে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিত্র তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছে ইপিবি।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ বছরও থাকবে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এটি আরও তথ্যবহুল আর সমৃদ্ধ থাকবে। তাই এর আয়তন হচ্ছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ। বঙ্গবন্ধুর ওপর দেশের প্রথিতযশা চিত্রশিল্পীদের আঁকা ২৬টি চিত্রকর্ম থাকবে এতে।

দর্শনার্থীদের কাছে মেলার আকর্ষণ বাড়াতে ও নান্দনিক আবহ রাখতে এবার সুন্দরবনের আদলে পার্ক করা হবে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখির পরিচিতির জন্য থাকবে পৃথক ফিশ অ্যাকুরিয়াম ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম। মূলমঞ্চে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন থাকবে লোকজ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া মেলায় থাকবে ডিজিটাল টাচস্ক্রিন। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন চেনা যাবে।

সূত্র জানায়, এই আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়ে এসেছে নানা প্রস্তাবনা। নান্দনিক ফটক ও ডিজিটাল লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী এবারের আসর নতুন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী দরপত্র দেওয়া হয়েছে। এজন্য নকশায় ভিন্নতার পাশাপাশি করা হবে ডিজিটাল আধুনিক রোড।

ইপিবি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্য মেলায় স্টল পেতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দফতরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্য থেকে লটারি ও দরপত্রের মাধ্যমে ইপিবি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে এবারের বাণিজ্য মেলায় অংশ নেবে মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠান।

প্যাভিলিয়নগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দরপত্রের মাধ্যমে। আর লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ পেয়েছে ২৭৭টি স্টল। এবারের মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য থাকছে ২৬টি স্টল। এছাড়া বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে ১৮টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৮টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৭টি প্যাভিলিয়ন।

বরাদ্দ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ছিল ২৭টি শর্ত। এগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট সময় নির্মাণ শেষ করা, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্মাণশৈলী মানসম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করা হয়।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে জানানো হয়, আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে। কোনও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে যেন স্টল বরাদ্দ হয়ে না যায় সেজন্য এই পন্থা।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT