ফের কেন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ? - CTG Journal ফের কেন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ? - CTG Journal

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
দিনে সাইকেল চুরি, রাতে ইয়াবা বিক্রি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন পরামর্শ ১৯ দিনে জামিনে মুক্ত ৩৩ হাজার কারাবন্দি ফেসবুক কি শুনতে পায়, কীভাবে নজরদারি করে? পানছড়িতে ভেস্তে যাচ্ছে এলজিইডি’র ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার তীর রক্ষা প্রকল্প: মরে যাচ্ছে ঘাস, তীরে ধরেছে ফাটল খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে বিস্মিত কূটনীতিকরা বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় কাপ্তাইয়ে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল চৈতন্য গলির জুয়ার আস্তানায় পুলিশের হানা, আটক ১৪ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপকহারে করোনা টেস্টের নির্দেশ রাউজানে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
ফের কেন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ?

ফের কেন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ?

গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৯১২ জন, যা গত ৫৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তার আগের দিন সোমবার (৮ মার্চ) শনাক্ত হয়েছিলেন ৮৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর, তার আগের দিন ( ৮ মার্চ) এই সংখ্যা ছিল ১৪।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্তের হার দাঁড়ায় পাঁচ দশমিক ১৮ শতাংশ। দৈনিক শনাক্তের হার সর্বশেষ এর আগে পাঁচ এর বেশি ছিল গত ১৮ জানুয়ারিতে। এরপর থেকেই শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। তবে মার্চের শুরুতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শনাক্ত হন ৩৮৫ জন। তারপর থেকেই প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। ১ মার্চে ৫৮৫ জন, ২ মার্চে ৫১৫ জন, ৩ মার্চে ৬১৪ জন, ৪ মার্চে ৬১৯ জন, ৫ মার্চে ৬৩৫ জন, ৬ মার্চে ৫৪০ জন, ৭ মার্চে ৬০৬ জন।

গত ৬ মার্চ দেশে সংক্রমণের ৫২তম সপ্তাহ শেষ হয়। সেদিন স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তার আগের সপ্তাহে তুলনায় সে সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে, ধীরে ধীরে সেটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চে প্রথম তিনজন করোনা রোগী শনাক্তের খবর জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তার ঠিক ১০দিন পর প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর খবর জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

তখন থেকে নিয়মিতভাবে রোগী শনাক্ত বাড়লেও দেশে মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই রোগী শনাক্তের হার চলে যায় ২০ শতাংশের ওপর এবং জুন মাসে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করে। আগস্ট মাস থেকে নতুন রোগীর সংখ্যা কমতে দেখা যায়। তারপর থেকে কমতির দিকে থাকে। গত ৩ ফেব্রুয়ারিতে শনাক্তের হার নেমে হয় দুই দশমিক ৯২ শতাংশে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার (৯ মার্চ)  আবারও সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াতে কয়েকটি নির্দেশনাও দেন তিনি।

হঠাৎ করেই সংক্রমণ বাড়ছে কেন এ বিষয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কেউ মাস্ক পরছে না। মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবার প্রবণতা বেড়েছে। টুরিস্ট স্পটগুলোতে হোটেল নাকি ফাঁকা নেই-এমন সংবাদও দেখছি গণমাধ্যমে। তাহলে কী করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

শীতের সময়ে সবাই করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করলেও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম তার বিপরীত বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শীতে আমাদের দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ, প্যারা-ইনফ্লুয়েঞ্জা-থ্রি, রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) ও রাইনোভাইরাস প্রবলভাবে থাকে। এগুলোর কারণেই শীতে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ার রোগী বেশি দেখা যায়। এসব ভাইরাস রেসপিরেটরি ভাইরাস। করোনাভাইরাসও একই। আর ভাইরাসের নিয়ম হচ্ছে, শরীরে যখন একটি ঢোকে, সেটা সহজে অন্য ভাইরাস ঢুকতে দেয় না। ঢুকলেও বের করে করে দেয়।’

গরম পরতে শুরু করেছে, এসব শীতের রেগুলার ভাইরাস চলে যাবে। তাই সংক্রমণ বাড়তে পারে মন্তব্য করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, একটা নিচু ঢেউ গরমের দিনে আসতে পারে, কিন্তু অত বড় হবে না, শ্যালো একটা ওয়েভ আসবে।

একইসঙ্গে নতুন স্ট্রেইন বাংলাদেশে ঢুকেছে কিনা-সেটাও এখন গবেষণা করার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। করোনার পুনঃসংক্রমণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে আবার মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য নিয়মিতভিত্তিতে কাজ করা দরকার। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ যা যা করা দরকার তাই যেন সরকার করে।

এদিকে সংক্রমণ বেড়েছে উল্লেখ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সম্প্রতি আমাদের সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যদি মাস্ক না পরি, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখি, সংক্রমণ তো বাড়বেই। তিনি বলেন, ‘মানুষ যেভাবে কক্সবাজার যাচ্ছে, সিলেটে যাচ্ছে, যেভাবে সামাজিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, মাস্ক পরার বালাই নাই, সামাজিক দূরত্বের বালাই নাই—সংক্রমণ তো বাড়বেই। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে আগের তুলনায়।’

সংক্রমণ বাড়ছে কেন সেটা অনুমান করা যায়, তবে গবেষণা ছাড়া সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে না মন্তব্য করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ( আইইডিসিআর) এর উপদেষ্টা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা অনুমান হচ্ছে গরম বাড়ছে, এখন ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশন না হলে টেকা মুশকিল। কিন্তু একটা বদ্ধ জায়গায় যদি মাস্ক ছাড়া অনেক মানুষ থাকে তাহলে লক্ষণ-উপসর্গবিহীন একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর থেকে বাতাসের মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হবেন। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট বি-ওয়ান ওয়ান সেভেন ( B117) পাওয়া গেছে । গত জানুয়ারি মাসে সিলেটে সংক্রমিত কয়েকজনের একজনের এ ভেরিয়েন্ট পাওয়া গেছে। সেটার জন্য হচ্ছে কীনা আমি বলতে চাই না, তার জন্য অ্যানালাইসিস দরকার যে, সংক্রমণ বাড়ার হার পুরো বাংলাদেশেই নাকি কোনও বিশেষ এলাকাতে। যদি প্রবাসীদের মধ্যে সিলেট বা ঢাকা অঞ্চলে হয় তাহলে এটা বলা যেতে পারে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিদিন শনাক্ত বাড়ছে। আগের দিনের চেয়ে পরের দিন আরও বেশি, এই লক্ষণ কিন্তু খারাপ হতে পারে। কাজেই এখনও যদি আমরা সর্তক হই, যেভাবে শীতকালে প্রধানমন্ত্রীর আশঙ্কার পর সবাই সর্তক ছিল সেভাবেই কাজ হওয়াতে নভেম্বরে বাড়তে গিয়ে বাড়েনি, নেমে গেছে। সেভাবেই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, আত্মতৃপ্তিতে ভুগি, তাহলে আমাদের বিপদ হতে পারে।

রাস্তায় একজন মানুষের মুখেও মাস্ক নেই, গাদাগাদি করে টং দোকানে চা খাচ্ছে। না আছে মাস্ক পরার সচেতনতা,  না আছে সামাজিক দূরত্ব।  তাহলে করোনা কেন বাড়বে না বলে প্রশ্ন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল।  তিনি বলেন, সরকারকে এখনই সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে, যেমনটা আগে করা হয়েছি। নয়তো বিপদ বাড়তে সময় নেবে না

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT