ফটিকছড়ি উদালিয়া চা বাগান যেন তার ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে: সবুজ বাগানের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিকে ডাকছে - CTG Journal ফটিকছড়ি উদালিয়া চা বাগান যেন তার ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে: সবুজ বাগানের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিকে ডাকছে - CTG Journal

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

        English
ফটিকছড়ি উদালিয়া চা বাগান যেন তার ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে: সবুজ বাগানের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিকে ডাকছে

ফটিকছড়ি উদালিয়া চা বাগান যেন তার ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে: সবুজ বাগানের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিকে ডাকছে

খোরশেদ আলম শিমুল, হাটহাজারী : উদালিয়া চা বাগান যেন তার ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে।সবুজ চা গাছের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিকে ডাকছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে আসে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। উদালিয়া চা বাগানটির অবস্থান ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানায়  ।বেশ কয়েক বছর আগেও অবহেলিত ছিল এ বাগানটি।২০০৩ সালে দেশের স্বনামধন্য  শিল্প প্রতিষ্ঠান মোস্তাফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ চা বাগানটি কিনে নেয়। চাবাগান  কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্টানের চেয়ারম্যানের দক্ষ ব্যবস্থপনা  এবং বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে বাগানটি বছরের পর বছর সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে । চা বাগানটি বৃক্ষরোপনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধান মন্ত্রীর জাতীয় পুরুস্কার ২০১৪ ভূষিত হয় । বাগানটিতে গত ২০১৯ সালে ১০ লক্ষ কেজি চা  উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হলেও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারনে ৯ লক্ষ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। এবছর ২০২০ সালে চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি। চা বাগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে  ইতিমধ্যে আগষ্ট ১৫ তারিখের মধ্যে ৫০%  চা উৎপাদন হয়। উদালিয়া চা বাগানের  ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,  চলতি বছরে প্রাকৃতিক অনুকূলতা এবং বাগানে কর্মরত পরিশ্রমী,সাহসী ও কর্মঠ সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের উৎপাদিত চা পাতা ইতিমধ্যে  নিলামে উঠছে। চলতি বছরে করোনা পরিস্থিতির কারনে বছরের শুরুতেই ২ মাস চা নিলাম বন্ধ থাকে। পরবর্তিতে চা নিলাম  শুরু হলেও আশানুরূপ ক্রেতা নিলামে অংশগ্রহণ  না করায় এবং বিদেশী কিছু নিম্নমানের চা অত্যন্ত কম মূল্যে বাজার জাত করণের কারনে আমরা চায়ের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।চায়ের বাজারদর কম হওয়ায় বাগান কর্তৃপক্ষ  বাগান নিয়ে চিন্তিত।এব্যাপারে সরকার চা বাগানের দিকে নজর দিলে  উৎপাদিত চা পাতার ন্যায্য মুল্য পাবে বলে জানান বাগান কতৃপক্ষ। চা বাগানটিতে চা পাতার পাশাপাশি ওষধি বৃক্ষের বাগান রয়েছে। যা আগামী কয়েক বছরে দেশের হারবাল চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ  অবদান রাখবে বলে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।ফটিকছড়ি উপজেলার উদালিয়া চা বাগানটি ৩ হাজার ৪৪ একর পাহাড়ি টিলা ও সমতল ভূমিতে গড়ে উঠা । বাগানটিতে চা’ বাগানের পাশাপাশি রাবার, ফলজ ও ওষুধি গাছের বাগান এবং মাছ চাষ করছে কর্তৃপক্ষ।ফলজ বৃক্ষের মধ্যে ড্রাগন, রামবুতান, শরিফা, কাজুবাদাম, বেল, নারিকেল, পেয়ারা, বিদেশী খেজুর,নপার্সিমন,  আম, লিচু, সফেদা, কমলা, বড়ই, কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, লিচু, লেবুসহ দেশি-বিদেশি আরো বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। ওষুধি বৃক্ষের মধ্যে অর্জুন, নিম, বহেরা, নিশিন্দা, কারেঞ্জা, জাফরান, আশোক, হরতকী, আমলকী, আগর, চন্দনসহ নানা প্রজাতির গাছে গড়ে তোলা হয়েছে ওষুধি বাগান। বাগানের প্রাকৃতিক লেক এবং অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা সংস্কার করে মাছ চাষ করেছে।
এককথায় চা বাগানের পাশাপাশী বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাগানটি বর্তমান মালিকের অধিনে কয়েক বছরের মধ্যে সাফল্যের মুখ দেখছে।বর্তমানে চা বাগানের শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৯৯৭ জন। এর মধ্যে ৫৪৭ জন পুরুষ ও ৪৩০ জন মহিলা কাজ করছে।বাংলাদেশ চা-শ্রমিকৃ ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ চা-সংসদ কর্তৃক চুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। জানা যায়,প্রতি বছর  চা-পাতা তোলা শুরুর আগের দিন বাগানের ভেতর ফকির টিলায় ফকির বাবার আস্তানা শরীফে শ্রমিকরা মানত করছেন। জানতে চাইলে তারা জানান আমাদর বিশ্বাস চা-পাতা তোলার আগে এ দোয়া ও মানত করলে ভালো চা-পাতা পাওয়া যায় এবং সকলের মঙ্গল হয়। পরদিন নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চা-পাতা উত্তোলন শুরু করেন শ্রমিকরা।সরেজমিনে চাবাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে প্রতিদিনই দূর  দুররান্ত থেকে আসছে প্রকৃতি প্রেমিক অসংখ্য পর্যটক। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে পর্যটকরা চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সরকারি বা বেসরকারিভাবে বাগানটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হলে বাগানটির আরো উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।এক সময় বাগানটি অরক্ষিত থাকলেও এখন রয়েছে কঠোর নিরাপত্তায়। আগে তেমন নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিল না বিধায় বিভিন্নস্থান থেকে এসে অপরাধীরা অপরাধ কর্মকান্ড সংঘঠিত করতো। এখন বাগানে ঢুকতে হলে জবাবদিহি করতে হয় এবং কর্তৃপক্ষের অনুমিতর প্রয়োজন পড়ে। তাছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার অধীনে বাগান কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় বাগানের প্রবেশমুখে স্থাপন করা হয়েছে উদালিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র । ফলে বাগান তথা এ অঞ্চলের আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখছে।  জানা যায়,বাংলাদেশ চা-গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের কেন্দ্রটিও এ বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত। দৃষ্টনন্দন ভবনে চলছে চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম।বাগানটির আরো যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বাগানে রূপান্তর করা এবং পর্যটন স্পট গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে বলেও কর্তৃপক্ষ জানান। উদালিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক  মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই বছর  বৃষ্টির কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি  ও চায়ের গুণগতমান বেশ ভালো হচ্ছে, এবং বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা ঠিক  থাকলে চলতি বছর আমাদের চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।তিনি আরো বলেন,চা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম অর্থকরি ফসল, ফলে চা নিয়ে দিন দিন মানুষের আগ্রহ ক্রমে বাড়ছে। আমরা আমাদের প্রতিষ্টানের মাননীয়  চেয়ারম্যান হেফাজুতুর রহমান স্যারের দিক নির্দেশনায় বাগানে লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT