বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
প্রশ্নপত্র ফাঁস: পরীক্ষা বাতিল সমাধান নয়

প্রশ্নপত্র ফাঁস: পরীক্ষা বাতিল সমাধান নয়

♦ তুষার আবদুল্লাহ-

অদ্ভুত ও উদ্ভট চিন্তা দেখছি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা বাতিল করা হবে কিনা, এ নিয়ে তারা কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের ব্যর্থতাকে আরও দৃশ্যমান করে দিলো। একইসঙ্গে নিজেরাই প্রমাণ উপস্থাপন করলো।

মাত্র ৮শ থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগের দিন থেকে শুরু করে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার একঘণ্টা আগে বহুনির্বচনি অভীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। সরাসরি বেচাকেনা চলছে ফেসবুকে। বিকাশ নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতি পরীক্ষার আগের বিকাল থেকেই ফাঁসকারীরা প্রশ্ন বিপণনে নেমে পড়ে ইন্টারনেটে। পরদিন পরীক্ষার মূল প্রশ্ন পাওয়ার পর মিলিয়ে দেখা যায় হুবহু মিলে গেছে। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের দিন প্রশ্নের সঙ্গে সমাধানও যুক্ত ছিল। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী প্রতিবারই একই কথা বলে যাচ্ছেন–ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল নেই।

কিন্তু গণমাধ্যম প্রতিবারই মিলের প্রমাণ দিয়ে আসছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছিল, এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফেসবুক ও অন্তর্জালের অন্যান্য মাধ্যম বন্ধ করে দেবে। তখনই বলা হচ্ছিল, এটি কোনও সমাধানের উপায় নয়। এর আগে জেএসসি, পিইসি’র সময়ও বলা হয়েছে, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে যে ভূত আছে, সেই ভূতকে আগে তাড়াতে হবে। না হলে কোনও মন্ত্র এবং ঝাঁড়ফুঁক কাজে দেবে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে টেলিভিশন, অনলাইন পত্রিকা ও সংবাদপত্রের যারাই রিপোর্ট করেছেন, তারা প্রত্যেকেই ফাঁসকারীর সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। তাদের কথা বলার ফোন আলাপ গণমাধ্যমের কাছে আছে। বরং শিক্ষাবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বোর্ড ও অধিদফতরের কর্তা ব্যক্তিদের টেলিফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কেউ কেউ এড়িয়ে গেছেন। দুই একজন অন্যের ওপর দায় চাপিয়েছেন। কথা হলো—গণমাধ্যমকর্মীরা যদি ফাঁসকারীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, শিক্ষা বিভাগ নিজে ও অন্যান্য দফতরের সহায়তা নিয়ে কেন তাদের পাকড়াও করতে পারছে না। নাকি এই উদ্যোগ নিলে তাদের ভেতরের ভূতগুলোর চেহারা প্রকাশ্যে চলে আসবে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নফাঁস এখন সমাজে, রাষ্ট্রে মহামারী আকার ধারণ করেছে। স্কুল, কলেজ, চাকরি—সব ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এই ফাঁসের সঙ্গে কোচিং ব্যবসার যেমন যোগসূত্র আছে। তেমনি এসব পরীক্ষার আয়োজক ও ব্যবস্থাপকদেরও কালো হাত আছে। সুতরাং মহামারীর চিকিৎসা শুরু করতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতর থেকেই। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন আয়োজনে, তার সক্ষমতা ও অদক্ষতার দিকটিও মূল্যায়িত হতে হবে। স্কুল, কলেজের শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার থেকে পালিয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অনেকটা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’-এ গিয়ে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন।

এখন যে দু’টি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিলের কথা ভাবা হচ্ছে, তাতে ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ওপর বাড়তি চাপই দেওয়া হবে। তাদের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কয়জন ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে নিয়েছেন? খুব নগণ্য সংখ্যাই বটে। তার  দায় কেন সব পরীক্ষার্থীকে নিতে হবে? প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কারণ, আমরা মনে করি, এরমধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রের মেধা যাচাইের প্রক্রিয়ায় ধস নামবে। প্রকৃত মেধা মূল্যায়িত হবে না।

মেধাবী বা সাধারণ পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাগ্রহণ মেধা যাচাই পদ্ধতির প্রতি আস্থা হারাবে। সর্বোপরি চিড় ধরবে রাষ্ট্রের স্তম্ভে। তাই শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, শিক্ষার্থীদের বাড়তি মানসিক চাপের মধ্যে ঠেলে না দিয়ে, লাজলজ্জা ও ভীতি ভুলে  শস্যের ভূতকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসুন। পুরস্কার যদি নিজেদের মানুষই পায় ক্ষতি কী?

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT