‘পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না’ - CTG Journal ‘পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না’ - CTG Journal

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে আরও দুই ডজন হেফাজত নেতা আবারও চিকিৎসক দম্পতিকে জরিমানা ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন পেয়ে কারামুক্ত ৯ হাজার আসামি লকডাউনের পঞ্চম দিনে ১০ ম্যাজিস্ট্রেটের ২৪ মামলা ওমানের সড়কে প্রাণ গেলো তিন প্রবাসীর, তারা রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা একই কেন্দ্রে টিকা না নিলে সার্টিফিকেট মিলবে না মামুনুলের বিরুদ্ধে অর্ধশত মামলা, সহসাই মিলছে না মুক্তি ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট পেতে সৌদি প্রবাসীদের বিশৃঙ্খলা সেরে ওঠা কোভিড রোগীদের জন্য কি ভ্যাকসিনের এক ডোজই যথেষ্ট? মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ নিরাপদ কৌশল লকডাউন: স্বাস্থ্য অধিদফতর ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
‘পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না’

‘পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না’

সম্প্রতি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় বাঙালিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাহাড়ে সবাইকে মিলেমিশে থাকার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটায়, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সাম্প্রদায়িক চেতনাকে উপেক্ষা করে পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। বাঙালিদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাটিরাঙার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মঙ্গলবার (৬ মার্চ) সরেজমিন ঘুরে দেখেন সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। পরে তবলছড়ি এলাকায় এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন গুঁইমারা রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ।

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বাঙালিরা যেসব জায়গা ভোগদখল করেছে, সেসব জায়গায় তাদের ভোগদখলে থাকবে। কারো যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে প্রশাসনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকা কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি বাঙালি জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যারা গুজব ছড়াচ্ছে, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিক তাদের নজরদারিতে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কী ঘটেছে গত কয়েকদিন

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৪ এপ্রিল আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। জেলার মাটিরাঙা উপজেলার লাইফুকারবারি পাড়া এলাকায় নিজেদের কচু ক্ষেতে কাজ করছিলেন ২০-২৫ জন বাঙালি। হঠাৎ ১২-১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ঘেরাও করে মারধর শুরু করেন এবং ১৫-২০ রাউন্ড ফাকা গুলি চালিয়ে ভয় দেখান। ওই ঘটনায় দুই জন বাঙালি গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ  সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পরে ৫ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আবার বাঙালি গ্রামে প্রবেশ করে তাদের বেধড়ক মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয় সন্ত্রাসীরা। একইদিন রাত ৯টার দিকে পুনরায় আরেকটি বাঙালি গ্রামে ৫০-৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয় এবং মারধর ও ঘরবাড়ি হতে বের করে দেয়।পরে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিমপাড়া, ইসলামপুর, শুকনাছড়িসহ আশপাশের গ্রাম থেকে বাঙালিরা একত্রিত হয় তাইন্দং বাজারে উপস্থিত হন। বাঙালিরা একত্রিত হয়ে ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

রাতে মুসলিমপাড়ার পংবাড়ি এলাকার বাঙালি মফিজ মিয়ার দখলকৃত সেগুন বাগানের ৩ শতাধিক সেগুন গাছ কেটে ফেলে সন্ত্রাসীরা। একই রাতে আনু মিয়ার চায়ের দোকান পুড়িয়ে দেয় তারা।

তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনও কারণ ছাড়াই গত ৪ ও  ৫ এপ্রিল শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ী এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুফের) সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। একটি বাড়ি ও একটি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাগান কেটে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বাঙালিরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভয়ে চাষের জন্য নিজ জমিনে যেতে পারছে না।’

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সন্ত্রাসীদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাহাড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, ‘পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নানা অজুহাতে পাহাড়ি-বাঙালির শান্তি নষ্ট করতে চাই।’ সন্ত্রাসীরা কখনও সফল হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ টহল ও পেট্রোলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT