পাহাড়ে ‘ বৈ-সা-বি-ন ’ উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে - CTG Journal পাহাড়ে ‘ বৈ-সা-বি-ন ’ উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
থানচিতে আফিমসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক করোনায় আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর করোনা চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করুন: জাফরুল্লাহ হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল ৭ দিনের রিমান্ডে মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে! নিন্মমানের পচা ও র্দুগন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ ২১২টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড নিয়ে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল এলোমেলো হেফাজত, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মৃত্যুর রেকর্ড হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব রিমান্ডে করোনা পজিটিভ হওয়ার একদিনের মধ্যেই কারাবন্দির মৃত্যু যেভাবে গ্রেফতার হলেন মামুনুল হক ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন দেয়া হতে পারে নাক দিয়ে!
পাহাড়ে ‘ বৈ-সা-বি-ন ’ উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

পাহাড়ে ‘ বৈ-সা-বি-ন ’ উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, পানছড়ি ॥ পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি বাঙ্গালী-পাহাড়ী ঘরে ঘরে চলছে পুরাতন বছরকে বিদায় নতুন বছর ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বরণ করার উৎসব বৈসাবিন-এর প্রস্তুতি। সকল সম্প্রদায়ের ধনী-গরীব সবাই মিলে বৈসাবিন-এর তিনদিন আনন্দে মেতে উঠে। পার্বত্যঞ্চলে সব চেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম-বর্ণ আর সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষায় ত্রিপুরাদের বৈসুক, মার্মাদের সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গা- চাকমা সম্প্রদায়ের বিঝু ও বাঙ্গালীর বাঙ্গালীয়ানায় নববর্ষ অভিহিত করে থাকে। তবে সব সম্প্রদায়ের উৎসব উদযাপনের রীতি প্রায় একই।

চৈত্র মাস আসতে না আসতেই বাঙ্গালী ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনের জন্য হালখাতা (সারা বছরের বকেয়া) হিসাব নতুন ভাবে সাজাতে এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের বৈসাবি-র আগাম বার্তা নিয়ে হাজির হয় “বিঝু পাখি”। সেই বিঝু পাখিটি পার্বত্য অঞ্চলের সবুজ পাহাড়ে গাছ-গাছারিতে বসে মধুর সুরে ডাকে। উপজাতীয়রা একে বিঝু পাখি বলেই ডাকে। এ পাখির ডাক শুনলেই উপজাতি সম্প্রদায় বৈসাবীর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বাংলা বছর শেষের দু’দিন আর বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনকে নিয়ে পাহাড়ীরা এ উৎসব পালন করে থাকে।

” বৈসাবিন” উৎসবকে পার্বত্য অঞ্চলের সবচেযে বড় উৎসব বলা যায়। বিভিন্ন পর্যটক এ উৎসবকে বাস্তবে উপভোগ করার জন্য খাগড়াছড়ি,রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের গ্রাম-গঞ্জে ছুটে আসে। তাই এ উৎসবকে ঐক্য. সাম্য আর সংহতির উৎসব বলা যায়।
যেভাবে বৈসাবিন-এর উৎপত্তি -পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালী-পাহাড়ীদের বর্ষবরণ ও বিদায এ উৎসবটি এখন পার্বত্য অঞ্চলে আর সমতলে “বৈ-সা-বি” নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের ” বৈসুক”, মার্মাদের সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গা ও চাকমাদের ” বিঝ”ু নামের প্রথম আদ্যাক্ষরে নিয়ে হয়েছে “বৈ-সা-বি”। ১৪২৪ বঙ্গাব্দে পার্বত্য অঞ্চলের একদল তরুন শিক্ষক-সংবাদকর্মী বাঙ্গালীর ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ থেকে ” ন” যুক্ত করে ” বৈসাবিন ” নামকরণ করে। ঐতিহ্য ও বৈচিত্রময় আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী ‘বৈ-সা-বি-ন’ উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পার্বত্যবাসী। জেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠে প্রান্তরে ও উপজাতীদের মন্দির মাঠে এ উৎসব হবে। এ লক্ষে ঐতিহাসিক মাচাং ঘর তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতির কাজ চলছে।
মেলায় আদিবাসীদের চাকমা সম্প্রদায়ের গেংকুলি (পালাগান) গীত, মার্মা সম্প্রদায়ের পানি খেলা, বলি খেলাসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল সকালে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সকলেই ফুল বিঝু উপলক্ষে প্রভাতে নদী-ছড়ায় ঐতিহ্য রক্ষায় ফুল ভাসাবে এবং বিভিন্ন খেলা-ধুলা শুরু হবে। ১৩ এপ্রিল মূল বৈসাবি উপলক্ষে সকালে ‘বৈ-সা-বি-ন’ এর শোভাযাত্রা হবে। ১৪ এপ্রিল উপজাতীয়দের গজ্জেপোজ্জে বিজু ও বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী পান্তা ইলিশের সাথে শোভাযাত্রা। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT