পানি দিচ্ছে ওয়াসা, বিল নিচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা! - CTG Journal পানি দিচ্ছে ওয়াসা, বিল নিচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা! - CTG Journal

বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কাদের মির্জার ভাই ও ছেলেসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব: আরও ৭ গ্রেফতার সমঝোতা নয় হেফাজতকে শক্তভাবে দমনের দাবি লকডাউনে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ চলবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট লোহাগাড়ায় একদিনেই ৩৩ জনকে জরিমানা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে নুরের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ৬ জুন সালথা তাণ্ডব: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেফতার বাঁশখালীতে ‘শ্রমিকরাই শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করেছে’! প্রাথমিক শিক্ষকদের আইডি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস ‘নারী চিকিৎসকের প্রতি পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখা যায়নি’ চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ২৪ এপ্রিল মিকনকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে: কাদের মির্জা
পানি দিচ্ছে ওয়াসা, বিল নিচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা!

পানি দিচ্ছে ওয়াসা, বিল নিচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা!

বিলিং ব্যবস্থার কারসাজির কারণে স্বাভাবিক নিয়মে পানি সরবরাহ করেও বিল বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কারসাজি করে প্রতিমাসে কয়েক হাজার সংযোগ বিল জারির বাইরে রেখে দেন কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব সংযোগের বিল অবৈধ উপায়ে নিয়ে গ্রহণ করে ওই টাকা নিজেদের পটেকে ভরেন মিটার ইন্সপেক্টর আর রাজস্ব শাখার কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তাদের কারসাজির কারণে প্রতিমাসে গড়ে ৮ হাজার ১৭৫টি সংযোগ বিলের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ওয়াসার বিল নিয়ে অনেক আগে থেকে এমন নয়-ছয় চলে আসলেও এ যাবতকালে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ভাগ বাটোয়ারার মাধ্যমে এই টাকার ভাগ নিজেরা পায় বলে অভিযোগ পাওয়ার পরও নিশ্চুপ থাকেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজস্ব শাখার কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, মোট সংযোগের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজারের মতো থাকে বিচ্ছিন্ন মিটার সংযোগ। এ কারণে সেগুলো বিলের বাইরে রাখা হয়। বাকি দুই থেকে আড়াই হাজার মিটার সংযোগের রিডিং পাওয়া যায় না বলে সেগুলো বিল জারির বাইরে থেকে যায়।

এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দিদারুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিটার রিডিং না পাওয়ার কারণে প্রায় প্রত্যেক মাসে কিছু মিটার সংযোগ বিলের বাইরে থেকে যায়। যেমন ডিসেম্বর মাসে ২ হাজার ৫৬৬টি সংযোগে মিটার পরিদর্শক থেকে বিলের ডাটা পাওয়া যায়নি। তাই এগুলোর বিপরীতে বিল জারি করা সম্ভব হয়নি। বিলের বাইরে থাকা ৬ হাজার ১৬টি কানেকশনের মধ্যে ৫ হাজার ৬৭১টি ডিসকানেক্টেড সংযোগ, ৩৪৫টির কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই এগুলো বিলের বাইরে আছে।’

মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর সেগুলো মোট সংযোগে যুক্ত থাকার কথা না। তাহলে এখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা মিটার সংযোগ মোট সংযোগে রাখা হয়েছে কেন জানতে চাইলে তিনি এর সঠিক কোনও উত্তর দিতে পারেননি।

দিদারুল আলম বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সেগুলো মোট সংযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে কেন সেগুলো রাখা হয়েছে আমি নিশ্চিত নই। আমি এসেছি অল্প কয়েকদিন হয়েছে। তাই এই বিষয়ে আমার স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই।’

ওয়াসার মাসিক বিলিং রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতের ওয়াসার মোট মিটার সংযোগ ছিল ৭৬ হাজার ৩৩৬। এর মধ্যে ওই মাসে ৬৮ হাজার ৯০৫টি সংযোগের বিপরীতে বিল জারি করে ওয়াসা। বাকি ৭ হাজার ৪৩১টি সংযোগ বিলের বাইরে থেকে যায়। একই অবস্থা ফেব্রুয়ারিতে। ওই মাসে ওয়াসার মোট মিটার সংযোগ ছিল ৭৬ হাজার ৪৩৭টি। এর মধ্যে ৬৯ হাজার ১০৯টি সংযোগের বিপরীতে বিল জারি করে ওয়াসা। বাকি ৭ হাজার ৩২৮টি সংযোগ বিলের বাইরে থেকে যায়। মার্চে মোট সংযোগ ছিল ৭৭ হাজার ৩৪৪টি। যার বিপরীতে ৬৯ হাজার ১৬৩টি সংযোগের বিল জারি করা হয়। ওই মাসে বিল করা হয়নি ৮ হাজার ১৮১টি সংযোগের। এপ্রিল মাসে মোট সংযোগ ছিল ৭৭ হাজার ৩৪৫টি। যার বিপরীতে ৬৯ হাজার ১৫৯টি বিল জারি করা হয়। ওই মাসে বিল করা হয়নি ৮ হাজার ১৮৬টি সংযোগের। মে মাসে মোট সংযোগ ছিল ৭৭ হাজার ৬২৩টি। যার মধ্যে ৬৯ হাজার ১৪৯টি সংযোগের বিল করা হয়। বাকি ৮ হাজার ৪৭৪টি সংযোগের বিল করা হয়নি। জুনে মোট মিটার সংযোগ ছিল ৭৭ হাজার ৭৯৪টি। যার মধ্যে ৬৯ হাজার ৩৭০টি সংযোগের বিল করা হয়। বাকি ৮ হাজার ৪২৪টি সংযোগের বিল করা হয়নি। অনুরূপভাবে জুলাইয়ে ৮ হাজার ২৬৫টি, আগস্টে মাসে ৮ হাজার ২০৭টি, সেপ্টেম্বরে ৮ হাজার ৫৬টি, অক্টোবরে ৮ হাজার ৩৯৯টি, নভেম্বরে ৮ হাজার ৫৭৪টি ও ডিসেম্বরে ৮ হাজার ৫৮২টি সংযোগের বিল করা হয়নি। এভাবে প্রতিমাসে গড়ে ৮ হাজার ১৭৫টি মিটার সংযোগ বিলের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের সম্মতিতে বিল নিয়ে এই কারসাজি করেন রাজস্ব শাখার কর্মকর্তারা। কারসাজি করে আয় করা টাকার একটি অংশ তিনিও পান। যে কারণে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মিটার ইন্সপেক্টর, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্লিপ্ততায় ফলে দিনের পর দিন চলছে এই অনিয়ম।

এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আবু সাফায়াৎ মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে জানার জন্য তিনি ওয়াসার জনসংযোগ কর্মকর্তা নুর জাহান শিলার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরে জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে জানতে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ’র মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। এস এম পাঠিয়েও এ বিষয়ে তার কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT