পদ্মা সেতুর কাজ লক্ষ্যের চেয়ে পিছিয়ে ‘৮ মাস - CTG Journal পদ্মা সেতুর কাজ লক্ষ্যের চেয়ে পিছিয়ে ‘৮ মাস - CTG Journal

রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রমজানে রাতেও ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের থানচিতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন বিচারের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও ইয়াবা দিয়ে আটক, হাটহাজারী ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল ও ৬ পুলিশসহ ১০ জনের বিরুদ্বে মামলা ১২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কা সফরে যাবে বাংলাদেশ হাজতি উধাও : জেলারকে প্রত্যাহার, ঘটনা তদন্তে কমিটি রামগড়ে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস পালিত শুল্ক কর ‘ই-পেমেন্টে’ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ মামলার শুনানি হয়নি ‘নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ ভেরি স্ট্রং আওয়ামী লীগ’ কারাগার থেকে হত্যা মামলার আসামি উধাও পাহাড়ে ওঠার সময় ট্রাক্টর উল্টে চালক নিহত বাংলাদেশে আসছে না আফগানিস্তান
পদ্মা সেতুর কাজ লক্ষ্যের চেয়ে পিছিয়ে ‘৮ মাস

পদ্মা সেতুর কাজ লক্ষ্যের চেয়ে পিছিয়ে ‘৮ মাস

ফলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সেতুর কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে কাজে গতি আনতে কিছু সুপারিশ করেছে সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
নানা জটিলতা পেরিয়ে পদ্মায় মূল সেতু নির্মাণে ২০১৪ সালের নভেম্বরে কাজ শুরু হয়; নদী শাসন, সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য কাজ শুরু হয় তারও আগে।
প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর পর ২০১৫ সালে তা শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় সংশোধনীতে কাজ শেষ করার নতুন লক্ষ্য ঠিক হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।
মূল কাজ শুরুর পৌনে ২ বছর পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়, যার মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এই সেতু দৃশ্যমান হল বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উচ্ছ্বসিত।
এরপর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ২০ নভেম্বর একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আইএমইডি; যাতে প্রকল্প কাজে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
বিভাগের উপ পরিচালক জয়নাল মোল্লা ইতোমধ্যে ওই প্রতিবেদন সেতু বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল (সড়ক ও রেল) পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
“সেতুর মূল কাজের কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রগতির বিবেচনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রায় আট মাস পিছিয়ে আছে বলে প্রতীয়মান হয়,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে জটিলতায় বিশ্ব ব্যাংককে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থে এই সেতুর কাজ করাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানিকে দিয়ে।
প্রকল্প পর্যবেক্ষণে গতিহীনতার নজির হিসেবে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪২টি পিয়ারের (স্তম্ভ) মধ্যে দুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এছাড়া মাত্র ছয়টি পিয়ারের পাইলিং সম্পন্ন এবং চারটির আংশিক সম্পন্ন হয়েছে।
“৪২টি পিয়ারের মধ্যে ১৪টির পাইল ডিজাইন সংশোধনাধীন। এই ১৪টির পাইল ডিজাইন কবে পাওয়া যাবে এবং ডিজাইন প্রাপ্তির জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।”
প্রথম স্প্যান বসানোর পর দ্বিতীয়টি কবে বসবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা এসেছে আইএমইডির প্রতিবেদনে। এই সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পাইলিংয়ের জন্য চারটি হ্যামার প্রকল্প এলাকায় থাকলেও তার দুটি কার্যকর রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

১. অসম্পূর্ণ পিয়ারের পাইলিং, পাইল ক্যাপ নির্মাণ, পিয়ার শ্যাফট ও পিয়ার ক্যাপ নির্মাণ শেষ করার সময়ভিত্তিক কর্ম-পরিকল্পনা করে অগ্রগতিতে জোর দিতে হবে।

২. যে সকল পিয়ারের পাইলিং শেষ হয়েছে, সেগুলোর পিয়ার ক্যাপ শেষ করে স্প্যান বসানোর কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে।

৩. যেসব পিয়ারের নকশা এখনও চুড়ান্ত হয়নি, তা দ্রুত শেষ করতে হবে। নকশা চূড়ান্ত করতে কর্তৃপক্ষ কী কী করছে, তা আইএমইডিকে জানাতে হবে।

৪. ধারাবাহিকভাবে কোন স্প্যান কোন সময়ে স্থাপন করা হবে, তার ধারাবাহিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

৫. নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি টেকসই ও সেতুটির প্রতিটি পর্য়ায়ে গুণগত মান রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

প্রকল্প পরিদর্শনে আইএমইডি জানতে পেরেছে, মোট ৪১টি স্প্যানের ১১টি স্প্যানের প্রয়োজনীয় স্টিল ট্রাসের মালামাল প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে তিনটির সংযোজন শেষ হয়েছে।

চীনে আরও ১৫টি তৈরির কাজ চলছে। বাকি ১৫টি স্প্যানের কাজ পর্যায়ক্রমে প্রকল্পে আনা হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতির অন্যান্য তথ্য

>> জাজিরা প্রান্তের ১২ দশমিক ১১ কিলোমিটার এবং মাওয়া প্রান্তের ১ দশমিক ৬৭ কিলোমিটারের সংযোগ সড়কের শতভাগ কাজ শেষ।

>> জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টে মোট ৪২টি পিয়ারে মোট ১৯৩টি পাইলের মধ্যে ১৯৮টি বা ৯৮ শতাংশ পাইল শেষ হয়েছে।

>> মাওয়া প্রান্তে ভায়াডাক্টে মোট ৩৯টি পিয়ারে ১৭২টি পাইলের মধ্যে মাত্র ১১টি পাইল বা ১১শতাংশ সম্পন্ন করা হয়েছে।

>> সিনো হাইড্রোর সঙ্গে প্রায় ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার চুক্তির মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ কাজ বাস্তাবায়িত হয়েছে।

>> জাজিরা প্রান্তে ১২ দশমিক ১১ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক তৈরি শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

>> মাওয়া প্রান্তের ১ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি এবং ১ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের পুরোটাই বাস্তবায়িত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT