রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
পথশিশুদের সঞ্চয় অর্ধকোটি টাকা

পথশিশুদের সঞ্চয় অর্ধকোটি টাকা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন পথশিশুরা তাদের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটাকা-দু’টাকা করে অর্ধকোটি টাকা সঞ্চয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার হাজার ৬৭১টি পথশিশুর ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এখন জমা রয়েছে ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকারও বেশি অর্থ। ২০১৭ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে পথশিশুরা বিভিন্ন ব্যাংকে ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছে। এর আগে, এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে তাদের জমানো টাকার পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ৪৮ হাজার। সেপ্টেম্বরে এসে ১৮টি ব্যাংকে তাদের জমানোর টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকারও বেশি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘পথশিশুরা ব্যাংকে টাকা রাখছে। এই পরিমাণ এখন প্রায় অর্ধকোটি টাকা।’ তিনি বলেন, ‘পথশিশুদের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা তৈরি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে তাদের (পথশিশু) কষ্টে উপার্জিত অর্থের সুরক্ষা, পথভ্রষ্ট হওয়ার প্রবণতা রোধসহ কয়েকটি কারণে ব্যাংকগুলোকে পথশিশুদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।’

জানা গেছে, দেশের ১৫টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এই পথশিশুদের ব্যাংক হিসাব দেখভাল করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মাসে নতুন করে ৯৪৬ পথশিশু ব্যাংকের সেবা নিয়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন শিশুর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭২৫। আর চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৭১টি পথশিশু ব্যাংকে লেনদেন করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ১০ টাকার বিনিময়ে পথশিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তার ওই নির্দেশনার পর তিন বছরেই পথশিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪৬ লাখ টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ জমা হলো।

এ প্রসঙ্গে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন আমাদের পথশিশুরাও সঞ্চয় করছে। এটা খুবই ভালো লাগার একটি তথ্য। এখন ওরা সবাই মিলে অর্ধকোটি টাকা সঞ্চয় করেছে, ভবিষ্যতে ওরা এক-একজন অর্ধকোটি টাকার মালিক হবে। ওরা তো ফেলনা নয়, ওরাও আমাদের মতোই মানুষ। অথচ ওদেরকে সবসময় ব্যাংকিং সেবার বাইরে রাখা হতো। একসময় এই পথশিশুরা ব্যাংকে ঢুকতেই পারত না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছে। অধিকাংশ পথশিশুর কোনও অভিভাবক না থাকায় এনজিও প্রতিনিধিরা তাদের অভিভাবক হয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, পথশিশুদের সবচেয়ে বেশি হিসাব খুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। এই ব্যাংকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পথশিশুদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১ হাজার ২১টি। আর এসব অ্যাকাউন্টে জমানো টাকার পরিমাণ ৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ৭৬৫ জন পথশিশুর হিসাব খুলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেসরকারি ব্যাংক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকে পথ শিশুরা ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা করেছে। ৫৪৪ জন পথশিশুর হিসাব খুলে তৃতীয় স্থানে থাকা বেসরকারি পূবালী ব্যাংক জমা আছে ৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে যে ১৫টি এনজিও পথশিশুদের ব্যাংক হিসাব দেখভাল করছে। এই এনজিওগুলো হলো— মাসাস, সাফ, উদ্দীপন, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ব্র্যাক, নারী মৈত্রী, সিপিডি, প্রদীপন, সাজিদা ফাউন্ডেশন, এএসডি, শক্তি বিদ্যালয়, ইবিসিআর প্রকল্প, মানব সেবা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, সোসাইটি ফার আনপ্রিভিলিজেড ফ্যামিলি ও পরিবর্তন।

এর আগে, ২০১৪ সালে প্রাথমিকভাবে ১০টি ব্যাংক পথশিশুদের ব্যাংক হিসাব খোলার দায়িত্ব নেয়। পরে আরও আটটি ব্যাংক এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো— সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT