নাম খোদাই করেই চলে তার সংসার - CTG Journal নাম খোদাই করেই চলে তার সংসার - CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কারাগারে কয়েদিকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা, পিবিআই’কে তদন্তের নির্দেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিললো তিন কোটি টাকার ‘আইস’ বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব কোভিড-১৯: আরও ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৬১৯ ১০ মাস পর কার্টুনিস্ট কিশোরের কারামুক্তি গোপালগঞ্জ ও বরিশাল সফর করতে পারেন নরেন্দ্র মোদি কাপ্তাই হ্রদে অজ্ঞাত যুবকের লাশ, পকেটে মিলল টাকা ও মোবাইল আসামির নাম জামাল, গ্রেফতার হলেন কামাল! করোনা পারে নাই, আর কেউ অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী প্রেসক্লাবের সামনে যুবদলের প্রতিবাদ সমাবেশ নতুন করে শনাক্ত বাড়ছে কেন? ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে যৌন হয়রানি: খাগড়াছড়ির শিক্ষককে ঢাকায় গ্রেফতার
নাম খোদাই করেই চলে তার সংসার

নাম খোদাই করেই চলে তার সংসার

সফেদ পাঞ্জাবিতে ষাটোর্ধ্ব স্থির মানুষ আবুল কাশেম। বিশ বছর ধরে নামই তার চারজনের সংসারের সম্বল। তবে নিজের নয়, অন্যের নাম। সাদা কাঠের গায়ে নিপুণ হাতে নাম খোদাই করে যা আয় হয় তাতেই দুই দশক ধরে তিনি টানছেন সংসারের ঘানি।

পর্যটনসমৃদ্ধ কুমিল্লার ঐতিহাসিক ময়নামতি শালবন বিহার আর ময়নামতি জাদুঘরের মাঝামাঝি জায়গায় প্রতিদিন শ’খানেক নামের পসরা সাজিয়ে বসেন তিনি। এসব জায়গায় ঘুরতে আসা বেশিরভাগ পর্যটকই এসে থামেন আবুল কাশেমের এই নামের দোকানের পাশে। খোঁজেন নিজের কিংবা প্রিয়জনের নামটি। খুঁজে পেলে তাদের অনেকেই কিনে নেন এসব নাম।

কাঠের গায়ে খোদাই করা নাম কেনার প্রতি বেশ আগ্রহ দেখা যায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের মাঝে। শুধু নামই না, ধর্মীয় বিভিন্ন শব্দ ও প্রচলিত অনেক বাণীও খোদাই করেন আবুল কাশেম। এগুলোরও চাহিদাও আছে বেশ।

এক একটি খোদাই করা নামের জন্য আবুল কাশেম নেন ৩০ টাকা। তবে শুধু সাদা কাঠের গায়ে নাম নিয়ে অনেক ক্রেতাই সন্তুষ্ট হতে পারেন না। কেউ কেউ আবার চান রঙিন নাম। সেক্ষেত্রে আবুল কাশেম বেশ দক্ষ হাতে নামগুলোতে প্রথমে আঠা দিয়ে পরে রঙ করে দেন। অবশ্য এতে বাড়তি ১০ টাকা গুণতে হয় ক্রেতাদের।

এমনই এক ক্রেতা চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা পাভেল সরকার। তিনি প্রতি বছরই ঘুরতে আসেন এই এলাকায়। আর নিয়ে যান পরিবারের কারও না কারও খোদাই করা নাম। পাভেল বলেন, ‘আমি এদিকে আসলেই পরিবার ও বন্ধুদের নাম খোদাই করে নিয়ে যাই। একটা স্মৃতি থাকে। সবাই খুব খুশি হয় এসব নাম উপহার পেয়ে।’

আবুল কাশেমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই নামের ব্যবসার ওপর ভর করেই তিনি তার সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও করিয়েছেন। দিয়েছেন বিয়েও। এখন এই ব্যবসা থেকেই চলে তার যাবতীয় খরচ আর চিকিৎসা ব্যয়।

অনেক আগে খুলনায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নাম খোদাইয়ের কাজ শিখেছিলেন তিনি। এরপর থেকে এই কাজকেই নিয়েছেন পেশা হিসেবে।

করোনাভাইরাস যেমন সবাইকেই পিছিয়ে দিয়েছে, তেমনি ব্যতিক্রম নন আবুল কাশেমও। তিনি বলেন, ‘এই নামের ব্যবসায় আমি কখনো লসে পড়িনি। তবে ইদানীং করোনার জন্য পর্যটক কম। আমার ব্যবসাতেও মন্দা চলছে। দেশ-পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে আশা করি আবারও ব্যবসা জমজমাট হবে।’

যে কাঠের ওপর ভর করে তার জীবন-সংসার তার প্রতিও আছে আবুল কাশেমের বেশ মায়া। আবুল কাশেম বলছিলেন, ‘কাঠ আসে গাছ থেকে। এই কাঠ দিয়েই আমার সংসার চলে। এখন সবাই গাছ কাটে বেশি, লাগায় কম। সবাই গাছ লাগালে খুব ভালো হতো। পরিবেশও ভালো থাকতো।’

কাঠ খোদাই এর এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে চাইলেন পৃষ্ঠপোষকতাও।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT