সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০১:২০ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে রাঙামাটির পর্যটন খাত

ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে রাঙামাটির পর্যটন খাত

জিয়াউল হক, রাঙামাটিঃ রাঙামাটি পর্যটন ব্যবসায় প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। গত জুন মাসের পাহাড় ধসের পর ও দীর্ঘ চার মাস পর্যটন সেতু পানিতে ডুবে থাকার কারণে ধংসস্তুপের রূপ নেয় রাঙামাটির পর্যটন খাত। গত কয়েক মাসে রাঙামাটিতে তেমন একটা পর্যটক দেখা না গেলেও বিজয় দিবসের ছুটি এবং শীতের আগমনের ফলে রাঙামাটি আবারো পর্যটকমুখর হয়ে উঠেছে। এতে আনন্দিত পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত সকলে।

গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের পর প্রায় এক মাস ধরে রাঙামাটির সাথে দেশের অন্যান্য স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। এরপর সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে পারলেও পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু চার মাস ছিলো পানির নিচে। এসব সমস্যা পিছনে ফেলে এখন রাঙামাটিতে পর্যটক আসতে শুরু হয়েছে। দীর্ঘ লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখেও ফুটেছে হাসি।

সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই সময়কে পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময় প্রচুর পর্যটক দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করেন। সাধারণত শীত মৌসুম হওয়ায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এসময় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। তবে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতু পানিতে ডুবে থাকায় পর্যটকরা তেমন একটা আসেনি।

এদিকে রাঙামটি ভ্রমণে আসা পর্যটকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। পাহাড় ধস ও ঝুলন্ত সেতু ডুবে থাকার কারণে এতোদিন রাঙামাটিতে আসা হয়নি। এখন সুযোগ পেয়ে রাঙামাটি সৌন্দর্য অবলোকন করছে পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক দম্পতি আশিক চৌধুরী ও টুম্পা চৌধুরী বলেন, রাঙামাটির অপার সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হয়ে আছি। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ তার বিশাল এক নির্দশন হলো রাঙামাটি। এক কথায় আমরা মুগ্ধ। দেশের ভিতরে এত সুন্দর জায়গা আছে না আসলে জানার সুযোগ হতো না।

টাঙ্গাইল থেকে ঘুরতে আসা জ্যোৎসা আক্তার বলেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অন্য রকম রাঙামাটির। তবে লেকের পানিতে পানির বোতল সহ অন্যান খাবারের জিনিস ফেলে পানিকে দূষণ করা হচ্ছে এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ জরুরি।

হোটেল হিল পার্ক এর ব্যবস্থাপক স্বপন শীল জানান, পাহাড় ধস থেকে পর্যটক না আসায় আমাদেও ব্যবসা হয়নি। বিজয় দিবসের ছুটি ও শীত মৌসুম হওয়ায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এসময় পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেছে। আশা করছি আশানুরুপ ব্যবসা করতে পারবো।

পর্যটন বোটঘাট ইজারাদার মো. রমজান আলী জানান, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ছুটিতে পর্যটক আসা শুরু হয়েছে। আমাদের বোটগুলো আগের চেয়ে এখন ভালাই ভাড়া হচ্ছে। কাপ্তাই লেকে বোট দিয়ে বিভিন্ন স্পটে ঘোরা যাবে। নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

পর্যটন কর্পোরেশনের, জগদীশ চাকমা জানান, ভূমি ধস ও পরে প্রবল বর্ষণের ফলে প্রায় ৪ মাস পানিতে ডুবে ছিল ঝুলন্ত সেতু। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ছুটিতে ঝুলন্ত সেতুতে প্রায় ১৫-১৬ হাজার পর্যটক এসেছে। বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত হোটেল-মোটেলগুলো।

ট্যুরিস্ট পুলিশ এএসআই মো. রেয়াজুল জানান, দেশ ও দেশের বাইরে থাকা আসা সকল পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ট্যুরিস্টদের নিরাত্তার কোন সমস্যা নাই বলে জানান তিনি।

তবে পর্যটক এলাকা হিসেবে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। এতে রাঙামাটিতে আরো পর্যটক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে এখানকার ব্যবসায়ীসহ ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT