ধর্ষণের ঘটনায় ভিন্ন প্রতিবেদন: নাসিরনগরের এসপিসহ ১২ জনকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি - CTG Journal ধর্ষণের ঘটনায় ভিন্ন প্রতিবেদন: নাসিরনগরের এসপিসহ ১২ জনকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি - CTG Journal

বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কারাবন্দি মুশতাকের মৃত্যু: তদন্ত কমিটির সময় বাড়লো টেলিটকসহ ৪ অপারেটরই তরঙ্গ নিলামে অংশ নিচ্ছে নিউজিল্যান্ডে এবার নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ! নারীকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই: সেই তিন পুলিশ সদস্য ২ দিনের রিমান্ডে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন বিএনপি এখন মুসলিম লীগ, সত্যি? বিদেশি চকলেটের প্যাকেটে ইয়াবা পাচার দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিরা চসিকের বই মেলা ২৩ মার্চ থেকে আরও টিকা কেনা হবে, টাকা প্রস্তুত রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী ‘রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই আওয়ামী সরকারকে উৎখাত করতে হবে’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ মার্চ পালনের নির্দেশ, পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক
ধর্ষণের ঘটনায় ভিন্ন প্রতিবেদন: নাসিরনগরের এসপিসহ ১২ জনকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি

ধর্ষণের ঘটনায় ভিন্ন প্রতিবেদন: নাসিরনগরের এসপিসহ ১২ জনকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৭ বছরের এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১১ বছর বয়সী আরেক ছেলেশিশুর বিরুদ্ধে করা মামলায় নির্যাতনের শিকার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন দেওয়ায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ৯ চিকিৎসক। পরে সিভিল সার্জনসহ ৯ চিকিৎসক এবং এসপিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

তলব আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ১২ কর্মকর্তা হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ছেলেশিশুর জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. শাহপরান চৌধুরী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৭ বছরের এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১১ বছর বয়সী আরেক ছেলেশিশুর বিরুদ্ধে করা মামলায় নির্যাতনের শিকার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একাধিক চিকিৎসক ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন দেওয়া এবং তদন্তে গাফিলতির জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ৯ চিকিৎসক এবং এসপিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ডাক্তারদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব এবং পুলিশদের ক্ষেত্রে আইজিপিকে প্রধান করে পৃথক পৃথক ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন এবং তদন্ত করে একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ধর্ষণ মামলার কার্যক্রম ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত। ১১ বছর বয়সী শিশুর জামিন আবেদনের ওপর শুনানিতে এ বিষয়ে দাখিল করা নথিতে ধর্ষণ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য বা অমিল পাওয়ায় গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিফুল হক, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. একরামুল রেজা, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ডা. ফাহমিদা আক্তার, ডা. তোফায়েল হক, ডা. ফরিদা ইয়াসমিন এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার, ডা. তাসনিম তামান্না ও ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নির্যাতিতার পিতা নাসিরনগর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর তার ৭ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মামলায় আসামি তার প্রতিবেশী, যার বয়স উল্লেখ করা হয় ১৫ বছর।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে পরদিন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি ডাক্তারি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

এদিকে আসামি হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে গত ৩ নভেম্বর এর শুনানি হয়। সেদিন আসামির বয়স প্রমাণের জন্য তার জন্মসনদ দাখিল করা হয়। জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ছিল ১০ বছর। এ অবস্থায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে একমাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার কেস ডকেট (সিডি) এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেন। এ সময় জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের দেওয়া একটি ডাক্তারি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সে প্রতিবেদনেও অসঙ্গতি দেখার পর আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা জেলা সদর হাসপাতালের আরেকটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। সে আবেদনেও নির্যাতিতা শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একাধিক চিকিৎসক ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন এবং তদন্তে গাফিলতি হাইকোর্টের কাছে প্রতিয়মান হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT