শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
ঢাকায় আট বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ২৩২১ জনের মৃত্যু

ঢাকায় আট বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ২৩২১ জনের মৃত্যু

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ ঢাকার ১৪২ কিলোমিটার রেললাইনে গত আট বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই হাজার ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত  প্রায় ১৪২ কিলোমিটার রেলপথে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মানুষের অসচেতনতা ও রেললাইনের দুই পাশের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর হার বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  ঢাকা জিআরপি থানা সূত্র এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাদের আওতাধীন এলাকায় মারা গেছেন ২৩২১জন। এর মধ্যে ২০১০ সালে ২০৩ জন (পুরুষ ১৬৫ ও নারী ৩৮), ২০১১ সালে ২৫৬ (পুরুষ ২১৫ ও নারী ৪১), ২০১২ সালে ৩০৬, (পুরুষ ২৬৭ ও নারী ৩৯), ২০১৩ সালে ৩১৮, (পুরুষ ২৭৮ ও নারী ৪০), ২০১৪ সালে ৩০৫ (পুরুষ ২৪২ ও নারী ৬৩), ২০১৫ সালে ২৯২, (পুরুষ ২৪৮ ও নারী ৪৪), ২০১৬ সালে ৩০৫ (পুরুষ ২৪৪ ও নারী ৬২) এবং ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৩৬ টি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বছর কত জন পুরুষ এবং কত জন নারী মারা গেছে, তা এখনও আলাদা করে হিসাব করা হয়নি। এসব ঘটনায় জিআরপি থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আবার দুই/একটি ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জিআরপি থানার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ৭ বছরে ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষ বেশি ট্রেনে কাটা পড়েছে। এ বয়সের নিহতদের সংখ্যা ১৩৮৫ জন। ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী ২০৩ জন এবং ৫১ থেকে বেশি বয়সের নিহতের সংখ্যা ৩৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ৫৬ জন, শ্রমজীবী ৪২৬ জন, চাকরিজীবী ৩৭৯ জন, অন্যান্য পেশার ১০৭৫ জন। কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনে হাঁটার সময় ৪২২ জন কাটা পড়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ৫৬ জন। রেল লাইনের ওপর বসা বা চলাচলের সময় কাটা পড়েছে ৫৫৪জন, রেলক্রসিংয়ে দ্রুত পারাপারের সময় ৮৯৮ জন, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৫৫ জন ও টেম্পুর সঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সাড়ে সাত বছরে মামলা হয়েছে ২ হাজার ৪৯টি। এর মধ্যে ২০১০ সালে ২০৩টি, ২০১১ সালে ২৫৬টি, ২০১২ সালে ৩০৬টি, ২০১৩ সালে ৩১৮, ২০১৪ সালে ৩০৫টি, ২০১৫ সালে ২৮৫টি, ২০১৬ সালে ৩০৫টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেললাইনের দুই পাশে ১০ ফুট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে জিআরপি। এই ২০ ফুট জায়গায় সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। কিন্তু এরপর মানুষ হাঁটা-চলা করছে রেললাইনের ওপর দিয়ে। এছাড়া রেললাইনের দুই পাশে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল গড়ে তুলেছে ভ্রাম্যমাণ বাজার ও বস্তি। এসব কারণে দিন দিন ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষের মৃত্যুর হার বাড়ছে। তাদের মতে, জনসচেতনতা না বাড়লে ট্রেনে কাটা রোধ করা যাবে না। এছাড়া প্রভাবশালী মহলের হাত থেকে রেললাইনের দুই পাশ দখলমুক্ত করতে হবে। নিয়মিত অভিযান চালালে রেলে কাটা পড়ে মানুষের মৃত্যুর হার কমানো যাবে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার এস আই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ট্রেনে কাটা পড়ে দেশের সব জায়গায়ই মানুষ মারা যাচ্ছে। এর কারণ অসাবধানতা।’ তবে অসাবধানতার জন্য তিনি অবৈধ রেলক্রসিং, অবৈধ স্থাপনা, রেললাইনের ওপরে হাটবাজার, হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন দিয়ে রাস্তা পার হওয়াসহ আরও কিছু কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু রেললাইন দিয়ে যারা চলাচল করেন, তারা যদি সচেতন না হন, তাহলে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যাবে না। এই ধরনের মৃত্যু ঠেকাতে হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT