চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজের বার্থিং পেতে সময় লাগছে ২৬ দিন, বাড়ছে খরচ - CTG Journal চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজের বার্থিং পেতে সময় লাগছে ২৬ দিন, বাড়ছে খরচ - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
মামুনুল গ্রেপ্তারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার থানচিতে আফিমসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক করোনায় আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর করোনা চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করুন: জাফরুল্লাহ হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল ৭ দিনের রিমান্ডে মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে! নিন্মমানের পচা ও র্দুগন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ ২১২টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড নিয়ে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল এলোমেলো হেফাজত, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মৃত্যুর রেকর্ড হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব রিমান্ডে করোনা পজিটিভ হওয়ার একদিনের মধ্যেই কারাবন্দির মৃত্যু যেভাবে গ্রেফতার হলেন মামুনুল হক
চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজের বার্থিং পেতে সময় লাগছে ২৬ দিন, বাড়ছে খরচ

চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজের বার্থিং পেতে সময় লাগছে ২৬ দিন, বাড়ছে খরচ

লোকাল মার্কেটে ৬ মাসে টন প্রতি রডের দাম বেড়েছে ১১,৫০০ টাকা, ২ টি বার্থ বরাদ্দের দাবি প্রতীকি ছবি

দেশের রড উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল স্ক্র্যাপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া এসব পণ্যবাহী জাহাজ বার্থিং না পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে আটকে আছে। বার্থিং পেতে একটি জাহাজকে সর্বোচ্চ ২৬ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।  

ফলে একটি জাহাজের আকার ভেদে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার ডেমারেজ দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।  ২৬ দিন অপেক্ষার  জন্য একটি জাহাজকে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউএস ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছে। 

এতে ব্যবসার খরচ বাড়ছে। কাঁচামালে ডেমারেজের অতিরিক্ত টাকা যুক্ত হওয়ায় বাজারে রডের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৬ মাসে লোকাল বাজারে গ্রেড ভেদে টন প্রতি রডের দাম বেড়েছে ১১ হাজার  ৫ শ টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রেড ভেদে রড ৪৮ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৯৫০০ টাকায়। 

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) তথ্য মতে, ২০২০ সালে্র সেপ্টেম্বরে বর্হিনোঙ্গরে আসার পর একটি স্ক্র্যাপবাহী জাহাজকে বার্থিং পেতে সময় লাগত ২ থেকে ৯ দিন। এরপর থেকে প্রতি মাসেই নোঙ্গরজনিত বিলম্ব বাড়তে থাকে। গত বছরের অক্টোবরে ৩ থেকে ১৫ দিন, নভেম্বরে ১১ থেকে ২১ দিন, ডিসেম্বরে ৭ থেকে ১৮ দিন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২১ থেকে ২৩ দিন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৩ থেকে ২৬ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। 

এই সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে স্ক্র্যাপ পরিবহনকারী জাহাজের জন্য ২টি বার্থ বরাদ্দ চেয়েছেনে বিএসএমএ নেতৃবৃন্দ। বিএসএমএ’র চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে স্টিল স্ক্র্যাপের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন বার্থ (নোঙ্গর) স্থান এর ব্যবস্থা না থাকার কারণে জাহাজবাহিত বিপুল পরিমাণ স্টিল স্ক্র্যাপ খালাসে মাত্রাতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে । ফলে স্টিল পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশের স্টিল মিলগুলিকে সময়মতো স্টিল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ প্রদানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে নোঙ্গরজনিত বিলম্বের  কারণে বার্থিং ডিলে জাহাজগুলিকে বিরাট অংকের বিলম্ব মাশুল (ডেমারেজ) পরিশোধ করার ফলে স্টিলের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

চিঠিতে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশের স্টিল উৎপাদনকারী মিলগুলো বর্তমানে পদ্মা ব্রিজ, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর  পারমানবিক প্রকল্পের ন্যায় বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের স্টিল পণ্যের চাহিদা পুরণ করছে। ভবিষ্যতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে সেই সঙ্গে স্টিলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। ডেমারেজ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে রডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।  

প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন অন্তত ৩ মাসের জন্য ২টি বার্থ সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ করার দাবি জানিয়েছে বিএসএমএ। সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে দুটি বার্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

দেশের শীর্ষ রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমএ’র হেড অব সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, বন্দরে জেটি স্বল্পতার কারণে বর্হিনোঙ্গরে জাহাজ পৌছানোর পরও পণ্য খালাস শুরু করতে প্রায় ১ মাস সময় লেগে যাচ্ছে। এতে বিলম্ব মাশুল বাবদ প্রচুর অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ কারণে রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে রডের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে । 

এদিকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ দিন আটকে থাকায় জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের (এমএলও) কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। অনেক এমএলও বাংলাদেশে জাহাজ পাঠাতে চায়না বলে জানিয়েছে শিপিং এজেন্ট সংশ্লিষ্টরা। 

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ১৮ জেটির মধ্যে ১২টিতে কন্টেইনার এবং ৬টি জেনারেল কার্গো খালাস হয়। কার্গো পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সীমিত সংখ্যক জেটি দিয়ে দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কন্টেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থান সময় কমে এলেও স্ক্র্যাপ এবং অন্যান্য কার্গোবাহী জাহাজের পণ্য খালাসে অপেক্ষার সময় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। 

কন্টেইনার জেটিতে প্রয়োজনে জেনারেল কার্গো খালাস করে জট নিরজন করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি তার দপ্তরে একটি সভায় ব্যস্ত আছেন বলে জানান। 
 

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT