চট্টগ্রামে লকডাউনের প্রথম দিনে ঝুঁকি আর ভোগান্তি নিয়ে ছুঁটছে মানুষ, মাঠে নেই প্রশাসন - CTG Journal চট্টগ্রামে লকডাউনের প্রথম দিনে ঝুঁকি আর ভোগান্তি নিয়ে ছুঁটছে মানুষ, মাঠে নেই প্রশাসন - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
মামুনুল গ্রেপ্তারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার থানচিতে আফিমসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক করোনায় আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর করোনা চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করুন: জাফরুল্লাহ হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল ৭ দিনের রিমান্ডে মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে! নিন্মমানের পচা ও র্দুগন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ ২১২টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড নিয়ে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল এলোমেলো হেফাজত, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মৃত্যুর রেকর্ড হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব রিমান্ডে করোনা পজিটিভ হওয়ার একদিনের মধ্যেই কারাবন্দির মৃত্যু যেভাবে গ্রেফতার হলেন মামুনুল হক
চট্টগ্রামে লকডাউনের প্রথম দিনে ঝুঁকি আর ভোগান্তি নিয়ে ছুঁটছে মানুষ, মাঠে নেই প্রশাসন

চট্টগ্রামে লকডাউনের প্রথম দিনে ঝুঁকি আর ভোগান্তি নিয়ে ছুঁটছে মানুষ, মাঠে নেই প্রশাসন

দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ আছে, তবে বাড়তি ভাড়ায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চলছে আগের মতোই।ছবি: টিবিএস

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন আরোপ করেছে সরকার।  আজ সোমবার থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ আছে, তবে বাড়তি ভাড়ায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চলছে আগের মতোই। 

শপিংমলগুলো বন্ধ থাকলেও খোলা আছে অন্যান্য দোকান ও বাজার। 

রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন প্রতিপালনের নির্দেশনা সংবলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে কঠোর হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এ লক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম নগরীতে ২৩টি ও মহানগরীর বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় আরও ৩০টি টিম নামানো কথা জানান জেলা প্রশাসক।ছবি: টিবিএস

কিন্তু সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জেলা বা পুলিশ প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে সোমবার সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। 

নগরীর অন্যতম প্রবেশপথ কাপ্তাই রাস্তার মাথা। সকাল ৯টার দিকে ওই এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে অবাধেই সিএনজি অটোরিকশা, মিনিবাস ও টেম্পোতে করে হাজারও মানুষ নগরীতে প্রবেশ করছেন। অনেকে আবার পরিবার পরিজন নিয়ে শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। এ সময় গাড়িগুলোতে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না।

টেম্পোচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর থেকেই যাত্রী পরিবহণ করছি। এখন পর্যন্ত কেউ নিষেধ করেনি।’

সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ রাস্তায় গণপরিবহণের জন্য অপেক্ষায় আছেন। কোনো বাস-মিনিবাস বা হিউম্যান হলার এলেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। গাদাগাদি, ঠেলাঠেলি আর ধাক্কাধাক্কি- এটাই এই মুহূর্তে চট্টগ্রামে গণপরিবহণের চিত্র।

আজও অন্যান্য সময়ের মতোই প্রতি আসনে যাত্রী নেওয়ার পরেও অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা গেছে; কিন্তু ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। কিছু কিছু বাসে ‘স্টাফ বাস’ বা ‘রিজার্ভ’ কাগজ সেঁটে দিয়েও যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

যাত্রীদের সঙ্গে মাস্ক আছে, কিন্তু সেটি পরিপূর্ণভাবে কাউকে পরে থাকতে দেখা যায়নি। কারও মাস্ক ঝুলছে থুতনিতে, আবার কারও হাতে। করোনাভাইরাসের প্রভাবমুক্ত থাকতে বিশেষজ্ঞরা অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বাসে বা মিনিবাসে একজন আরেকজনের সঙ্গে লেপ্টে বসে থাকতে দেখা গেছে।ছবি: টিবিএস

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার কর্মকর্তা শাখোয়াত হোসাইন থাকেন নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায়। তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘আমি সব সময় প্রভাতী মেট্রোতে চলাচল করি। ১০টার আগে অফিসে পৌঁছাতে হবে, কিন্তু গাড়িতে উঠব- সে পরিবেশ নেই। সকাল ৮টা থেকে বহদ্দার হাটে গাড়ির অপেক্ষায় আছি। কিছুক্ষণ পরপর একটি বা দুটি গাড়ি এলেও সেগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। আগের চাইতে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হলেও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে গাদাগাদি করে।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের ট্রাফিক বিভাগ ভালো বলতে পারবে।’

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সরকারি-বেসরকারি অফিসে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়ার কথা বলা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। 

৫০ শতাংশ কর্মকর্তাকে দিয়ে অফিস চালু রাখার কথা বলা হলেও, প্রতিষ্ঠানগুলো সে নির্দেশনা মানছে না।

নগরের বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও চান্দগাঁও এলাকার মূল সড়কের পাশাপাশি কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও গলির ভেতর বা আবাসিক এলাকার সব ধরনের দোকান খোলা আছে। কাঁচাবাজারগুলোতে কোনো স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।

গতকালের মতো আজও নগরের ব্যাংক ও এটিএম বুথগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩০৭ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩৯৫ এবং শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT