চট্টগ্রামে মানছে না ভোজ্যতেলের সরকারি দাম - CTG Journal চট্টগ্রামে মানছে না ভোজ্যতেলের সরকারি দাম - CTG Journal

শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্য, ১০ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ বাজেটে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তার প্রস্তাব ডিসিসিআই ও বিসিআইয়ের শিশু অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর: হাইকোর্ট প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী মানিকছড়িতে ইউসিসিএ লি. চেয়ারম্যানকে বিদায় ও বরণ করে নিলেন উপজেলা পরিষদ টিকা নিয়েছেন ৩৫ লাখ ৮১ হাজার মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রাকপ্রস্তুতি জানতে চেয়েছে সরকার যেসব ইউনিয়নে ১১ এপ্রিল ভোট কলিমুল্লাহ’র বক্তব্য রুচি বিবর্জিত: শিক্ষা মন্ত্রণালয় করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী কারাগারে কয়েদিকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা, পিবিআই’কে তদন্তের নির্দেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিললো তিন কোটি টাকার ‘আইস’
চট্টগ্রামে মানছে না ভোজ্যতেলের সরকারি দাম

চট্টগ্রামে মানছে না ভোজ্যতেলের সরকারি দাম

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এখনও অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভোজ্যতেলের দর। সরকার তিনদিন আগে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিলেও নানা অজুহাতে তা উপেক্ষিত হচ্ছে নগরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে। গত ১০ বছরে এটাই ভোজ্যতেলের সর্বোচ্চ দাম। রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি আর খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।  

সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১৩৫ টাকায়, পাম সুপার প্রতি লিটার ১০৪ টাকায় এবং বোতলজাত সয়াবিন পাঁচ লিটার ৬৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পাম সুপার প্রতি লিটার ২১ টাকা বাড়িয়ে ১২৫ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন পাঁচ লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৬৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। 

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নগরের পাহাড়তলী ও রিয়াজউদ্দীন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করছেন না কেউই। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে লিটার প্রতি ১৩৫ টাকায়। পাম সুপার বিক্রি হচ্ছে লিটার প্রতি ১২৫ টাকায়। বোতলের পাঁচ লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ টাকার ওপরে। তবে লিটার প্রতি খোলা তেলের দাম ও বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিনের দাম একই হওয়ায় অনেক দোকানিরা খোলা সয়াবিন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে পুষ্টি (৫ লিটার) ৬০০ টাকা, ফ্রেশ (৫ লিটার) ৬৩০ টাকা, তীর (৫ লিটার) ৬৩০ টাকা, রুপচাদা (৫ লিটার) ৬৩৫ টাকা, বসুন্ধরা (৫ লিটার) ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে খুচরা বাজারে তীর (৫ লিটার) ৬৪০ টাকা, ফ্রেস (৫ লিটার) ৬৪০ টাকা, রুপচাদা (৫ লিটার) ৬৫০ টাকা, বসুন্ধরা (৫ লিটার) ৬৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেলের মণপ্রতি দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। পাম তেলের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। সিটি পাম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ৩ হাজার ৭০০ টাকা, এস. আলম ৩ হাজার ৭৬০ টাকা, টিকে ৩ হাজার ৮২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা প্রতিকেজি ১০০ টাকারও বেশি। এছাড়া পাইকারিতে সয়াবিন তেল প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে সিটি ৪ হাজার ৪৫০ টাকা, এস. আলম ৪ হাজার ৫২০ টাকা এবং টিকে ৪ হাজার ৫১০ টাকা, যা প্রতিকেজি ১২০ টাকারও বেশি। 

পাহাড়তলী বাজারে আল মোক্কা স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ সায়মুন বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। রপ্তানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তাই গত কয়েক মাস ধরে তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।’ 

রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী হাশেম বলেন, ‘সরকার দাম বেঁধে দিলে কী হবে, আমরা তো কম দামে তেল কিনতে পারছি না। আমাদের যে দামে তেল কেনা তাতে ১২৫ টাকার নিচে সুপার তেল বিক্রি করার উপায় নেই। আর খোলা ভালো সয়াবিন এখন পাইকারিতেই বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকার ওপরে। এই দামে কিনলে ১৩৫ টাকার নিচে বিক্রি করা যাবে না। তাই খোলা সয়াবিন আনা বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ খোলা সয়াবিন তেলের দামে বোতলের তেলই কেনা যায়। আমরা যদি কম দামে কিনতে পারি, তাহলে কম দামেই বিক্রি করবো।’

খাতুনগঞ্জে শরীফা স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ তওকীর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল কোম্পানিগুলোও তেলের দাম বাড়াচ্ছে। প্রতি বছর শীত এলেই তেলের চাহিদা বাড়ে, তাই দামটাও বেড়ে যায়। তবে এবার বেশি দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

নগরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, ‘গত বছরে যে সয়াবিনের দাম ছিল লিটার প্রতি ১০০ টাকা, এখন সেই সয়াবিন কিনতে হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। একইভাবে ৪৬৫ টাকায় যে পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যেত এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ৬৪০ টাকা। সামনে রমজান আসছে। তখনো যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না কমে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাড়তি চাপের মধ্যে পড়তে হবে।’

রিয়াজউদ্দিন বাজারের ক্রেতা ব্যাংকার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘শুধু তেল নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামও হু হু করে বাড়ছে। অথচ আমাদের বেতন কিন্তু বাড়েনি। আমাদের একটা পারিবারিক বাজেট থাকে। পণ্যের দাম বাড়ায় আমাদের ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এদিকে সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। অথচ সে দামে তেল বিক্রি করতে নারাজ দোকানিরা।’

টিসিবি বলেছে, গত এক বছরে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। আর খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। পাম অয়েল সুপারের দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। আর ৫ লিটার বোতলের সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ এবং এক লিটার বোতলের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। আসন্ন রমজানে তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেম্বারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কারসাজি যাতে না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে।’ 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ভোজ্যতেলে অস্থিরতা ঠেকাতে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি কর্মকতা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি। তাই নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন। ভোজ্যতেল একটি আমদানিকৃত পণ্য। ট্যারিফ কমিশনের অনুমতি ব্যতি রেখে মূল্য বাড়ানো যায় না। আর যেহেতু পণ্যটি মোড়কে বিক্রি হয়। সেকারণে মোড়কের গায়ের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রি করা নিষেধ। তারপরও ব্যবসায়ীরা বাড়তি মূল্যে বিক্রি করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী মাসে পাম ও সয়াবিন তেল উৎপাদনের মৌসুম। ফলে আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম কমতে পারে। আসন্ন পবিত্র রমজানে ভোজ্যতেল নিয়ে যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে, সেজন্য এখন থেকে আমদানি, বিতরণ ও ভোক্তা পর্যায়ে বিপনণে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।’ 

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT