চট্টগ্রামে করোনার ৭ হাসপাতালে বেড খালি ২৪২, আইসিইউ ২৮ - CTG Journal চট্টগ্রামে করোনার ৭ হাসপাতালে বেড খালি ২৪২, আইসিইউ ২৮ - CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা খালেদা জিয়ার আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক সত্যজিৎ এর উপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে উত্তাল খাগড়াছড়ি রাউজানে খাবার হোটেলে স্বাস্থ্য বিধি অমান্য, জরিমানা এতিমদের সম্মানে সানরাইজ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া রাউজানে ৪০ জন কৃষক পেল ২০ লক্ষ টাকার কৃষি ঝণ রাউজানে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে ঈদের আগে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকতে হবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের লামায় ৩০০জন কর্মহীন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপহার প্রদান মহালছড়ি সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় মানবিক সহায়তা রামগড়ে হিমাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত পণ্য, ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক
চট্টগ্রামে করোনার ৭ হাসপাতালে বেড খালি ২৪২, আইসিইউ ২৮

চট্টগ্রামে করোনার ৭ হাসপাতালে বেড খালি ২৪২, আইসিইউ ২৮

দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। চট্টগ্রামে সোমবারও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪১ জন আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক গণমাধ্যমে আইসিইউ বেডের সংকট ও হাসপাতালে বেডের সংকটের কথা নানাভাবে প্রচার করা হচ্ছিল। 

কিন্তু ১২ এপ্রিল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ৭ হাসপাতালের ৬৫১ সাধারণ বেডের মধ্যে ২৪২ বেডই খালি। অন্যদিকে ৫৯টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ২৮ বেডে রোগী নেই। ফলে আইসিইউ ও জেনারেল বেড নিয়ে হাহাকার হওয়ার যে কথা শুনা গিয়েছিল আপাতত সেটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই। এছাড়া নগরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ৮০টি আইসিইউ রয়েছে। যদিও বা সেখানকার বেশিরভাগ আইসিইউ রোগীতে পরিপূর্ণ।

তবে মা ও শিশু হাসপাতালের সাধারণ বেড ও আইসিইউ বেড রোগীতে পূর্ণ হলেও উল্টো চিত্র হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও রেলওয়ে হাসপাতালে। এই দুই হাসপাতালে ১৫৪টি সাধারণ বেড ও ১০টি আইসিইউ বেড থাকলেও সেখানে নেই একজন রোগীও। তবে মা ও শিশু হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিকগুলো করোনা রোগীতে ভরা। এমনকি সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি ডেলটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।  

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেলে ১৮০ সাধারণ বেডের মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ১৫৮ জন। ১০ আইসিইউ’র মধ্যে ৭টিতে রোগী থাকলেও তিনটি খালি। 

ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৩২ সাধারণ বেডের মধ্যে ২১ রোগী ভর্তি রয়েছে। সেখানে আইসিইউ’র ৫ বেডই খালি। 

জেনারেল হাসপাতালের ১৪০ সাধারণ বেডের মধ্যে ৮৬ জন রোগী ভর্তি। 

রেলওয়ে হাসপাতালে ৫৪ বেডের মধ্যে রোগী নেই একজনও। 

সরকারি চার হাসপাতালের ৪০৬ বেডের মধ্যে করোনা রোগী ভর্তি আছে (১২ এপ্রিল পর্যন্ত) ২৬৫ জন আর বেড খালি আছে ১৪১টি। এছাড়া ৩৩টি আইসিইউ’র মধ্যে ১৮ বেড খালি রয়েছে। 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ১০০ বেডের মধ্যে সব বেড করোনা রোগীতে ভরা। ১৬ আইসিইইউ’র মধ্যে ১৬টিতেই রোগী ভর্তি।
 
হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ১০০ বেডই রোগী শূন্য। একই অবস্থা আইসিইউ’র ১০ বেডেও। যদিও বেসরকারি এ হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে জেনারেল হাসপাতালের অধীনে সরকারি খরচে। যেটির রোগী সেবা নিয়ে প্রথম থেকে প্রশ্ন উঠেছে। 

হালিশহরের আল মানাহিল নার্সার হাসপাতালে ৪৩ সাধারণ বেডের মধ্যে ৪২ জন রোগী আছে। এ হাসপাতালে কোনও আইসিইউ বেড নেই।  

বেসরকারি তিন হাসপাতালের ২৪৫ সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ১০১টি। ২৬ আইসিইউ’র ম্যধে ১০টি বেড খালি রয়েছে। 

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনার চিকিৎসায় আইসিইউ যে অপরিহার্য- তা কিন্তু নয়। করোনায় অক্সিজেন আর হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সবচেয়ে বেশি দরকার। সেসব ক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তবুও পরিস্থিতি যেভাবে বদলাচ্ছে, মানুষকে সচেতন হতেই হবে। বরাবরই এই একটা বিষয়ে আমরা জোর দিচ্ছি। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’

চট্টগ্রামে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর বেসরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী ও চিকিৎসক নেতারা চট্টগ্রামে সাতটি আইসোলেশন সেন্টার ও একটি ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। সেসব আইসোলেশন সেন্টার ও ফিল্ড হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৭শ’ রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। কিন্তু সংক্রমণ কিছুটা কমে যাওয়ায় গত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে এসব আইসোলেশন সেন্টার ও ফিল্ড হাসপাতাল বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়।

তবে গত মার্চ মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামে করোনার ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও চসিকের ৫০ বেডের আইসোলেশন সেন্টার ছাড়া এসব স্বাস্থ্য অবকাঠামো নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
 
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় চট্টগ্রামে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩০। এসময়ের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৪১ জন। শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৪৪ হাজার ৮৬০ জনে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT