গুইমারাতে শীলং তীর জুয়ায় সর্বস্ব হারাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, বাড়ছে বেকারত্ব সহ অপরাধ প্রবণতা - CTG Journal গুইমারাতে শীলং তীর জুয়ায় সর্বস্ব হারাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, বাড়ছে বেকারত্ব সহ অপরাধ প্রবণতা - CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১২:২৪ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা খালেদা জিয়ার আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক সত্যজিৎ এর উপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে উত্তাল খাগড়াছড়ি রাউজানে খাবার হোটেলে স্বাস্থ্য বিধি অমান্য, জরিমানা এতিমদের সম্মানে সানরাইজ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া রাউজানে ৪০ জন কৃষক পেল ২০ লক্ষ টাকার কৃষি ঝণ রাউজানে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে ঈদের আগে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকতে হবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের লামায় ৩০০জন কর্মহীন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপহার প্রদান মহালছড়ি সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় মানবিক সহায়তা রামগড়ে হিমাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত পণ্য, ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক
গুইমারাতে শীলং তীর জুয়ায় সর্বস্ব হারাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, বাড়ছে বেকারত্ব সহ অপরাধ প্রবণতা

গুইমারাতে শীলং তীর জুয়ায় সর্বস্ব হারাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, বাড়ছে বেকারত্ব সহ অপরাধ প্রবণতা

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি : পার্বত্য জেলায় খাগড়াছড়িড়র বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে গুইমারাতে ভারতীয় অনলাইন ভিত্তিক জুয়া শীলং তীর কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাসের মত মহামারী আকার ধারণ করেছে। খাগড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা এখন এ জুয়াড়ী ও শীলং তীর জুয়ার এজেন্ট এ রমরমা বানিজ্য চলছে।

শুধুতে উপজাতীয় পাড়া মহল্লায় এটি সীমাবন্ধ থাকলে বর্তমানে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এ সর্বনাশা জুয়া শীলং তীর। আর শীলং জুয়ার খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে যুবকরা, ফলে বেকারত্ব বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মদ ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদকে, এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে অপরাধমুলক কর্মকান্ড।

গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক এলাকার সরলমনা কৃষক হযরত আলী। কৃষিই তার পেশা, কৃষিকাজ করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ভালই কাটছিল তার সংসার জীবন কিন্তু তার সুখের দিনে বাধসাধে সর্বনাশা শীলং তীর। জুয়ার এজেন্টরা লোভ দেখায় তাকে ১০টাকার বিনিময়ে ৮শতটাকা পাওয়ার। মাত্র ১০টাকায় ৮শত টাকার কথা শুনে তার চোখ যেন কপালে উঠে যায়। লাভের আশায় ১০টাকা ৩/৪বার খেলার পর হঠাৎ ৮শত টাকা পেয়েও যায় সে।

কথা বলার এক পর্যায়ে হযরত আলী প্রতিবেদককে কৃষিকাজ বাদ দিয়ে জুয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ জানাতে বলেন, কৃষিকাজে লাভ কি? কঠোর পরিশ্রম করে আশানুরুপ ফসল অনেক সময় পাওয়া যায় না। কিন্তু এখানে ঘরে বসে ১০টাকায় ৮শত টাকা, সমহারে জুয়ার বিনিয়োগ করলে বেশী লাভ পাওয়া যায়। সে আশায় নিজের সব পুজিঁ শীলং তীরে বিনিয়োগ করে সে।

কিন্তু দূর্ভাগ্য, ধীরে ধীরে সর্বস্ব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। অনাগত জীবনে চোখে অন্ধকারই দেখছে হযরত আলী।
হযরত আলীর মত বড়পিলাক গ্রামে শতশত নারী-পুরুষ জড়িয়ে পড়ছেন শীলং তীরের ভয়াবহ থাবায়। কেউ কেউ প্রথম দিকে কিছুটা লাভবান হলেও পরে পথের ফকির হয়ে মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র পুলিশকে ম্যানেজ করে এ জুয়ার বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। শীলং তীর জুয়া প্রথম দিকে এলাকার বেকার বা আড্ডাবাজ তরুন যুবকদের টার্গেট করা হলেও বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও গৃহবধুরাও আসক্ত হয়ে পড়েছে এ জুয়ার নেশায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে টিফিনের টাকা শীলং তী়ের বাজিতে রাখছে লাভের আশায়।

সরেজমিনে বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে গুইমারা উপজেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে এ জুয়া খেলা। গুইমারা উপজেলায় প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষনিক শাস্তি, গ্রেফতার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সহ নানা মুখী তৎপরতায় অনেকটা কমে আসছিল এ অনলাইন ভিত্তিক জুয়া খেলা। কিন্তু গত একমাসেরও বেশী সময় ধরে বড়তলী এলাকার নতুন এজেন্টের মাধ্যমে পুলিশকে সাপ্তাহিক হারে মাশোহারা দিয়ে বেশ জোরেসোরে চালাচ্ছে শীলং তীর।

এছাড়াও শীলং তীর এজেন্টের সাথে পুলিশের সমন্বয় সাধন করে একটি প্রভাবশালী মহল মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে বিপুল অংকের অর্থ বানিজ্যের বিষয়টি গুইমারা উপজেলায় ওপেন সিক্রেট। উপজেলার বড়পিলাক এলাকায় কথিক সাংবাদিক ও তার পরিবারও এখন শীলং তীরের এজেন্ট বলে অভিযোগ করেছে সাংবাদিকের এক প্রতিবেশী।

শীলং তীর জুয়ার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একাধিক খেলোয়াড় জানান, আগে শুধুমাত্র গুইমারা উপজেলাতেই শীলং তীরে দৈনিক লেনদেন হতো ২ থেকে ৩লক্ষ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে দৈনিক ৬ থেকে ৭ লক্ষাধিক টাকায়।

সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, জুয়ার কারনে যুব সমাজ সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভঙ্গুর হচ্ছে অর্থনৈতিক কাঠামো, বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ কর্মকান্ড। তাই ‘শীলং তীর’ জুয়া বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গুইমারার বড়পিলাক, রামসুবাজার, আমতলীপাড়া, মুসলিমপাড়া, বুদংপাড়া শংখলাপাড়া, তৈকর্মা, সাইংগুলিপাড়া এলাকার দোকান, পরিত্যক্ত বা করোনার কারনে বন্ধ স্কুল কিংবা বসতবাড়ির আঙ্গিনায় এ খেলার পসরা বসায় জুয়ার এজেন্টরা।

এনড্রয়েট মোবাইল ফোনে ইমু বা হোয়াটস এ্যাপ্স ব্যবহার করে জুয়া থাকেন তারা। দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা আবার, রাত ৯থেকে ১১টা এ সময়ে শীলং এর ড্র অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT