খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: ডা. জাহিদ - CTG Journal খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: ডা. জাহিদ - CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০১:০৯ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ঈদ বোনাস কি বকেয়া হয়? করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ছাড়িয়েছে দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড ভারতের কালবৈশাখী আসতে পারে সন্ধ্যায় যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ করুন: প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার আবেদন এখন আইন মন্ত্রণালয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করেই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা খালেদা জিয়ার আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিক সত্যজিৎ এর উপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে উত্তাল খাগড়াছড়ি রাউজানে খাবার হোটেলে স্বাস্থ্য বিধি অমান্য, জরিমানা এতিমদের সম্মানে সানরাইজ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া রাউজানে ৪০ জন কৃষক পেল ২০ লক্ষ টাকার কৃষি ঝণ
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: ডা. জাহিদ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: ডা. জাহিদ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্টেবল (স্থিতিশীল) বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক। একই সঙ্গে বুধবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে বিএনপি প্রধানের চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

ডা. জাহিদ বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) যে চিকিৎসা বাসায় চলছিল, সেই চিকিৎসাসহ সেখানে আরও কিছু নতুন ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে এবং যোগ করার পরিপ্রেক্ষিতে আলহামদুল্লিলাহ উনি (খালেদা জিয়া) এখন স্টেবল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে একটি মেডিক্যাল বোর্ড করা হয়েছে। এভার কেয়ার হাসপাতালের ৭ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। আর  এই  বোর্ডে ম্যাডামের ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, আমি এবং অধ্যাপক মো. আল মামুনও আজকে ছিলেন। অর্থাৎ, ১০ সদস্যের একটা মেডিক্যাল বোর্ড উনার এ পর্যন্ত যেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, তার রিভিউ করেছেন। পরবর্তীকে উনাকে তারা পরীক্ষা করে আরও কিছু পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই বোর্ডের সুপারিশ মোতাবেক পরীক্ষাগুলো আজকে অথবা কালকে হবে। সেসব পরীক্ষা রিভিউ করে ম্যাডামের সার্বিক চিকিৎসার প্ল্যানিংটা সম্পন্ন হবে।’

এর আগে গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ওইদিন বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে  খালেদা জিয়াকে  স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১৫ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন এভার কেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করান।

বুধবার রাতে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা স্টেবল। দেশবাসীসহ দলের নেতাকর্মীদের কাছে আমি উনার জন্য দোয়া করার কথা বলছি।  আমরা খুবই আশাবাদী। ইনশআল্লাহ ম্যাডাম খুব শিগগিরই বাসায় ফিরে যাবেন।’

তিনি জানান, এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার। মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়াকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত রাতে তার সিটি স্ক্যান (চেস্ট), ইসিজি, ইকো ইত্যাদি হৃদরোগের পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে।

কোভিড ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘‘আলহামদুলিল্লাহ গত ১৫ এপ্রিল ম্যাডামের সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল, সেখানে আমরা রিপোর্ট দেখে বলেছিলাম ফুসফুসে উনার ‘মিনিমাম ইনভলবমেন্ট’ আছে। গতকালকে চেস্টে যে  সিটি স্ক্যান হয়েছে, সেখানে বিন্দুমাত্র ‘ইনভলবমেন্ট’ নেই। কাজেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া এটা ভালো দিক। উনার হৃদযন্ত্রের মধ্যে কোনও ধরনের কার্ডিও সমস্যা নেই। কালকে ডাক্তার সাহেবরা যে পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়েছেন, সেই রিপোর্টেও নেই।”

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘উনার কোনও করোনা উপসর্গ নেই। উনি কিন্তু এখন নন-করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসার নিয়মেই আছে দুই সপ্তাহের পরে রোগীর যদি কোনও সিমট্রম না থাকে, তাহলে করোনা টেস্ট আর করানোরই প্রয়োজন নেই। তখন ধরে নিতে হবে উনার কাছ থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই।’

খালেদা জিয়া কবে বাসায় ফিরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, ‘বাসায় ফেরার বিষয়টা প্রেডিক্ট করাটা খুব টাফ। উনার পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলে বোর্ড রিভিউ করবেন। তারপরে আমরা আশা করতে পারি, খুব সহসাই উনার বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলন ডা. মোহাম্মদ আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা (কারাদণ্ড) হয় খালেদা জিয়ার। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তার ছয় মাসের মুক্তি হয়। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির সময় আরও  ছয় মাস বাড়ায় সরকার। এ বছরের মার্চে তৃতীয়বারের মতো ফের ছয় মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT