খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন: বিএনপি - CTG Journal খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন: বিএনপি - CTG Journal

বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১১:০৭ অপরাহ্ন

        English
খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন: বিএনপি

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। সরকার প্রধানের ‘আপনি আমাকে মারার চেষ্টা করেছেন’ অভিযোগকে ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ বলে মনে করে দলটি। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।  তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অপরিণামদর্শী, দায়িত্বহীন, বানোয়াট ও অসত্য বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
‘এই আকস্মিক হামলার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হতবাক ও বিচলিত হয়ে পড়েন’ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া দ্রুত হতাহতদের খবর নিতে থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকীকে দেখতে সিএমএইচ-এ যান। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানাতে চেষ্টা করেন, এজন্য নিরাপত্তা বাহিনী দিনভর চেষ্টা চালায়। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সুধাসদনের আশেপাশের রাস্তা দিনরাত দখল করে রাখে। এক পর্যায়ে নিরাপত্তার অগ্রিম টিম হিসেবে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করে সেখান থেকে বের করে দেয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা।’

বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব উল্লেখ করেন, ২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ এবং এতে হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ক্যাবিনেট নিন্দা জানান, নিহত ও আহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান ও দোষীদের বিচারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার কাছে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ স্বাক্ষরে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে পত্র পাঠান। সেই চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে পত্রবাহক নিজেও হামলার শিকার হন। বোমা হামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্ভিস দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই সদস্যরা আসেন। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত একজন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘পরবর্তীতে ১/১১ এর সরকারের সময় গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত শেষে অভিযোগ পত্রে (চার্জশিট) বোমা হামলার সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের জড়িত থাকার কোনও উল্লেখ নাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম কেউ কখনও উচ্চারণ করেনি।’

বিএনপির মহাসচিবের অভিযোগ, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশি পুন:তদন্তের মাধ্যমে রচিত সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানসহ বিএনপি’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নাম জড়িত করা হয়। এতে সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করে পুলিশি ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কল্পিত চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। যে পুলিশ কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে পুন:তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি বর্তমান সরকারের অত্যন্ত আপনজন হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সেসময় অবসরে থাকলেও এবং নৌকা মার্কা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে এলাকায় ব্যাপকহারে পোস্টার সাঁটার পরেও তাকে ডেকে নিয়ে এসে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২১ আগস্ট বোমা হামলার মামলার পুন:তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়- মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য। সরকারের ইচ্ছা পূরণে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য তাকে কয়েকটি পদোন্নতিও দেয়া হয়-যা নজিরবিহীন।

ফখরুল আরও বলেন, ‘মুফতি হান্নানকে দিয়ে যদি বিএনপি সরকার গ্রেনেড হামলা করায় তাহলে সেই সরকারই ২০০৫ সালের ১লা অক্টোবর কেন তাকে গ্রেফতার করবে? ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মামলায় সংক্ষিপ্ত কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। সমগ্র মামলাটি বিশ্লেষণ করলে এটিই সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপিকে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই ২১ আগস্ট সংক্রান্ত মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে।’

‘বর্তমান সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য এখনও চলমান রয়েছে’ মন্তব্য করে ফখরুল বলেন,  ‘আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে হাতের মুঠোয় নিয়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জড়াতে সম্পূরক চার্জশিট তৈরির মাধ্যমে প্রহসনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজা দিয়ে এখন খালেদা জিয়াকে টার্গেট করা হয়েছে। ২১ আগস্ট নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিষেদগার করছেন প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। এই মামলায় কোনোভাবেই বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কেউ কখনোই টু শব্দটি করেনি।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT