কেন বারবার বদলাচ্ছে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা? - CTG Journal কেন বারবার বদলাচ্ছে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা? - CTG Journal

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
অবৈধ বাংলাদেশিদের চাকরির বিষয়ে বিবেচনা করছে সৌদি আরব শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেবে সরকার, আবেদনের নির্দেশ ঢাবিতে ভর্তির আবেদনপত্র জমা শুরু, পরীক্ষা ২১ মে থেকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার নারীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় ৯ জনের ফাঁসি অদম্য মনোবল ও ইচ্ছা শক্তিতে ওরা আজ মানিকছড়ি’র সফল নারী উদ্যোক্তা ঢাকায় পরিকল্পনা করে জেলায় জেলায় সংঘবদ্ধ চুরি বায়েজিদে ইমন হত্যায় ৬ জন আটক রামগড়ে পরিকল্পিত পরিবার গঠন বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত গুমোট গরম, শিলাবৃষ্টির শঙ্কা অধিকারটা আদায় করে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মহামারির এক বছর: প্রাণ গেল ৮ হাজার ৪৭৬ জনের
কেন বারবার বদলাচ্ছে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা?

কেন বারবার বদলাচ্ছে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা?

আবারও দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ নিয়ে একাধিকবার করোনার টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যকার সময় নিয়ে পরিকল্পনা বদলালো অধিদফতর।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি, ওয়ার্ল্ড ভ্যাকসিনেশন কমিটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবাই মিলে পরামর্শ দিয়েছে দ্বিতীয় ডোজ ৮ সপ্তাহ দেওয়া হলে ভালো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে একটা কথা লিখতে হবে, একটা চলমান প্রক্রিয়া, এ ভ্যাকসিন নিয়ে কারও কোনও অভিজ্ঞতা নেই। কাজেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে নানান রকম চেঞ্জ হবে, ফিক্স কোনও কিছু ঠিক করে বলে দিতে পারবো না।’

প্রসঙ্গত, শুরুতে ‘কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই পরিকল্পনাতে প্রথম ডোজ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ছিল চার সপ্তাহ পর। তখন এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

এরপর গত ১১ জানুয়ারি অধিদফতর জানায়, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৮ দিন পর। এখন ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর।

সেদিন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, এর আগে আমাদের জানানো হয়েছিল প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার নতুন তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। গতকাল নতুন নিয়ম জানার পর আমরা পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছি।

এরপর আবার ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগের দিন গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, আট নয়, প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ।

সেদিন কেন এই পরিবর্তন জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছিলেন, আমাদের অবস্থা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। আপাতত ঠিক করা হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ চার সপ্তাহ পরে দেওয়া হবে।

কিন্তু ৮ সপ্তাহ পর টিকার কার্যকারিতার হার এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ আর চার সপ্তাহ করলে সেটা ৬২ শতাংশ। তাহলে চার সপ্তাহে কেন আসা হলো জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন সেদিন বলেন, এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের সময় ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছিল। আর অন্যান্য ভ্যাকসিনের সময়কাল ছিল ২১ থেকে ২৮ দিন।

এই ব্যাখ্যা তো আগেও ছিল, তাহলে কেন আগে ৮ সপ্তাহ করা হয়েছিল—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো একেক দেশের সিদ্ধান্ত। কিন্তু ৮ সপ্তাহের সিদ্ধান্ত কি টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত নাকি পলিটিক্যাল সিদ্ধান্ত ছিল জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এসব সিদ্ধান্তই নাইট্যাগ (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ)-এর সঙ্গে আলোচনা করে, তাদের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। যেহেতু ৭০ লাখ টিকা এখন আমাদের হাতে রয়েছে তাই টিকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য চার সপ্তাহ পর থেকে আমরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু করবো এবং পর্যায়ক্রমে দুই ডোজই দেওয়া হবে। যাতে এই ৭০ লাখ টিকার যথাযথ ব্যবহার আমরা করতে পারি।

দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিকা নেওয়া মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার তারিখ দেওয়া হয়েছে টিকা দেওয়ার তারিখ হতে একমাস পরের। তাহলে এই মানুষগুলো কতদিন পর টিকা নেবেন জানতে চাইলে অধিদফতরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে পরবর্তী সময় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কোভিশিল্ড টিকার কার্যকারিতার হার ৮ সপ্তাহ পর দিলে ৯০ শতাংশ হয়, কিন্তু দেশে ৪ সপ্তাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমালোচনা করেছেন খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা ভবিষ্যতে ভীষণ সমালোচনার মুখে পড়তে যাচ্ছি। তারা বলেন, শুরুতে দেশে আসা টিকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বলেই চার সপ্তাহ অর্থাৎ এক মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চার সপ্তাহ করার পর টেকনিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে আমরা অনেক বলেছি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্পষ্টভাবে গবেষণায় রয়েছে আট সপ্তাহ বা তারপরে দ্বিতীয় ডোজ দিলে তার কার্যকারিতা বাড়ে। কিন্তু হঠাৎ চার সপ্তাহ তারা কেন করলো। সবাই ভেবেছিল, টিকা মানুষ একদমই নেবে না- কিন্তু টিকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাই তারা দ্বিতীয় ডোজের সময় এগিয়ে এনেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে মানুষ টিকা নিচ্ছেন, কিন্তু যে পরিমাণে নেওয়ার কথা, সে পরিমাণে নিচ্ছে না। বিশেষ করে শহরের দরিদ্র মানুষ, গ্রামের মানুষ, অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ জানেই না। এ কারণে বারবার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে তাদের। আর এই প্ল্যানিংয়ে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষ টিকা গ্রহণ করছে কী করছে না—সেটা দেখে, আর কিছু না।

চার সপ্তাহ করার জন্য পরামর্শক কমিটি কখনও পরামর্শ দিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চার সপ্তাহ করার জন্য আমরা কখনও পরামর্শ দেইনি। তবে গতকাল জাতীয় কমিটির সভায় অধিদফতরকে আট সপ্তাহ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, চার সপ্তাহের তুলনায় আট সপ্তাহ করলে সেটা বেশি ফলপ্রসূ হবে। এখন এটা স্বাস্থ্য অধিদফতরের জন্য বিরাট বড় এক চ্যালেঞ্জ হবে চার সপ্তাহ থেকে আট সপ্তাহে যাওয়া। এত মানুষকে টিকা দেওয়া হয়ে গেছে, তাদের আট সপ্তাহের আওতায় আনা।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় ডোজ কবে প্রদান করা হবে কমিটি এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। আর অতি সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাবনা অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক। আমরা এ প্রস্তাবনা অনুসরণ করার জন্য সরকারকে বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছি। তারা আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করে আগের ৪ সপ্তাহের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আর কমিটির ২৬তম সভায় ভ্যাকসিনের মেয়াদকালের দিকে লক্ষ রেখে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বলেও জানান অধ্যাপক সহিদুল্লাহ।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT