ওলামাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতে ইসলামের - CTG Journal ওলামাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতে ইসলামের - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১২ অপরাহ্ন

        English
ওলামাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতে ইসলামের

ওলামাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতে ইসলামের

ইসলাম শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির ধর্ম; অন্যায়ভাবে কারও ওপর আঘাত করার অধিকার ইসলাম কাউকে দেয়নি বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরী কমিটির সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব। দলের পক্ষে তিনি ওলামা সম্প্রদায়কে সুনামগঞ্জের শাল্লার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন এবং সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হেফাজতে ইসলামের ওপর মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘ইসলাম সংখ্যালঘুদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। বিপুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে সংখ্যালঘুরা বসবাস করছে। অতীতেও দেশের কোথাও সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে আলেম ওলামা কিংবা ইসলামী সংগঠনের ন্যূনতম সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ যখনই কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলা বা অনাকাক্ষিত ঘটনা ঘটে, তৎক্ষণাৎ দেশি-বিদেশি চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী মহল ইসলামী সংগঠন এবং ওলামায়ে কেরামের ওপর দায় চাপিয়ে বিভ্রান্তিকর ও প্রোপাগান্ডা চালায়। অথচ পরবর্তীতে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে এমন ঘটনা সংঘটিত হওয়ার  প্রমাণ মিললেও মিডিয়া তার অসত্য নিউজের জন্য ভুল স্বীকার করে না। এতে সামাজিকভাবে ওলামায়ে কেরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে ইসলাম ও দেশবিরোধী গোষ্ঠী।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা আহ্বান করছি, শাল্লার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। একইসঙ্গে আমরা সুনামগঞ্জের ওলামায়ে কেরামসহ সবাইকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। সর্বোপরি সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে মিডিয়ার দায়িত্বশীল ও বিবেকবান ভূমিকা আশা করি।’

সাম্প্রতি পবিত্র কুরআনের ২৬টি আয়াত বাতিল চেয়ে ভারতের কোর্টে রিট হয়েছে বলে উল্লেখ করে হেফাজতের এই নেতা আরও বলেন, ‘এই রিটের মাধ্যমে গোটা পৃথিবীর মুসলমানদের কলিজায় আঘাত করা হয়েছে। কুরআনের কোন আয়াত থাকবে আর কোন আয়াত থাকবে না এটা কি মোদি সরকার আর তাদের আদালত ঠিক করে দেবে? ভারতের এমন কর্মকাণ্ডে মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের মানুষ চরম বিক্ষুব্ধ। সে কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর গুরুত্বপূর্ণ আয়েজনে মোদির মতো একজন কুখ্যাত ব্যক্তি আসুক এটা আমরা চাই না। তার আগমনের বিরুদ্ধে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’

হেফাজতের কী ধরনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে জানতে চাইলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা এখন কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করছি না। আপতত এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে আমাদের বক্তব্য দেওয়া অব্যাহত থাকবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT