একুশে পদক নিলেন চট্টগ্রামের তিন সন্তান - CTG Journal একুশে পদক নিলেন চট্টগ্রামের তিন সন্তান - CTG Journal

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
অবৈধ বাংলাদেশিদের চাকরির বিষয়ে বিবেচনা করছে সৌদি আরব শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেবে সরকার, আবেদনের নির্দেশ ঢাবিতে ভর্তির আবেদনপত্র জমা শুরু, পরীক্ষা ২১ মে থেকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার নারীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় ৯ জনের ফাঁসি অদম্য মনোবল ও ইচ্ছা শক্তিতে ওরা আজ মানিকছড়ি’র সফল নারী উদ্যোক্তা ঢাকায় পরিকল্পনা করে জেলায় জেলায় সংঘবদ্ধ চুরি বায়েজিদে ইমন হত্যায় ৬ জন আটক রামগড়ে পরিকল্পিত পরিবার গঠন বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত গুমোট গরম, শিলাবৃষ্টির শঙ্কা অধিকারটা আদায় করে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মহামারির এক বছর: প্রাণ গেল ৮ হাজার ৪৭৬ জনের
একুশে পদক নিলেন চট্টগ্রামের তিন সন্তান

একুশে পদক নিলেন চট্টগ্রামের তিন সন্তান

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ বিশিষ্ট নাগরিককে ২০২১ সালের একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনই চট্টগ্রামের সন্তান রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ পদক পান। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক-২০২১ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক পদক তুলে দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৪ ফেব্রুযারি ২০২১ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। পুরষ্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের তিন কৃতি সন্তানের মধ্যে ভাষা এবং সাহিত্যে এই সম্মাননা পেয়েছেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী (মরণোত্তর), নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার এবং চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া, পটিয়া ও সাতকানিয়ায়। এদের মধ্যে প্রয়াত বুলবুল চৌধুরীর পক্ষে তার পরিবারের সদস্যরা এ পদক গ্রহণ করেন। 

বাংলাদেশে আধুনিক নাচের অগ্রগামী হিসেবে পরিচিত বুলবুল চৌধুরীর (১৯১৯-১৯৫৪) প্রকৃত নাম রশীদ আহমদ চৌধুরী। ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার চুনতি গ্রামে তাঁর জন্ম। গ্রামটি বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কার পান। নৃত্যশিল্পে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর নামে ১৯৫৫ সালের ১৭ মে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বুলবুল ললিতকলা একাডেমী।

সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, প্রশিক্ষক ও লেখক। বিশিষ্ট এই নির্মাতা প্রথম সিনেমা ‘ঘুড্ডি’ মুক্তি পায় ১৯৮০ সালে। ‘ঘুড্ডি’ ছাড়াও তিনি ১৯৯০ সালে আলমগীর ও রোজিনাকে নিয়ে ‘লাল বেনারসী’ এবং ইলিয়াস কাঞ্চন এবং অঞ্জু ঘোষকে নিয়ে ‘আয়না বিবির পালা’ নির্মাণ করেন। সালাউদ্দিন জাকী চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাড়ি সাতকানিয়ার ভোয়ালিয়া পাড়ায়।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের বিকাশে যে কয়জন মানুষের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে তাদের মধ্যে আহমেদ ইকবাল হায়দার অন্যতম। বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম এই পুরোধা ব্যক্তিত্ব চট্টগ্রামের ‘তির্যক’ নাট্যদলের দলপ্রধান। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়া পৌরসভার ২ নম্বর সুচক্রদণ্ডী ওয়ার্ডে। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ও ড. আহমদ শরীফ আহমেদ ইকবাল হায়দারের নিকটাত্মীয়।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পদক প্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

ভাষা আন্দোলনে এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পান তিনজন। তারা হলেন- মোতাহের হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও আফসার উদ্দীন আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য পদক পান সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর), গোলাম হাসনায়েন ও ফজলুর রহমান খান ফারুক।

সংগীতে পাপিয়া সারোয়ার, অভিনয়ে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুজাতা আজিম, নাটকে আহমেদ ইকবাল হায়দার, চলচ্চিত্রে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, আবৃত্তিতে ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবার একুশে পদক পেয়েছেন।

সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, আলোকচিত্রে পাভেল রহমান, গবেষণায় সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে মির্জা আব্দুল জলিল, সমাজ সেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামানকেও পদক দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ভাষা ও সাহিত্যে কবি কাজী রোজী ও লেখক-গবেষক গোলাম মুরশিদের পাশাপাশি বুলবুল চৌধুরীও একুশে পদক পান।

ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্ত থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিকদের পাশপাশি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, মন্ত্রণালয়ের  সচিব মো. বদরুল আরেফীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT