আ.লীগের নির্যাতনে সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছে: বিএনপি - CTG Journal আ.লীগের নির্যাতনে সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছে: বিএনপি - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর করোনা চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করুন: জাফরুল্লাহ হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল ৭ দিনের রিমান্ডে মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে! নিন্মমানের পচা ও র্দুগন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ ২১২টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড নিয়ে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল এলোমেলো হেফাজত, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মৃত্যুর রেকর্ড হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব রিমান্ডে করোনা পজিটিভ হওয়ার একদিনের মধ্যেই কারাবন্দির মৃত্যু যেভাবে গ্রেফতার হলেন মামুনুল হক ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন দেয়া হতে পারে নাক দিয়ে! শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের দায় মালিকপক্ষ এড়াতে পারে না: সুজন
আ.লীগের নির্যাতনে সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছে: বিএনপি

আ.লীগের নির্যাতনে সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছে: বিএনপি

আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আজকে কেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরেও কী কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভারতে চলে যাচ্ছে? কারণ কী?’

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

কারণ, হিসেবে ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘এটাই কারণ এই সময়ে তাদের ওপর নির্যাতনের পরিমাণ আরেও বেশি করে বেড়ে গেছে এবং লক্ষ্যই হচ্ছে এটা যে, তাদের সম্পত্তি দখল করা, তাদের বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা এবং মালামাল লুট করা।’

পাকিস্তান আমলে তৈরি শত্রু সম্পত্তি আইন সরকার বাতিল করছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে বলে যে, তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে চান, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ তারা রক্ষা করতে চান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শত্রু সম্পত্তি আইন তারা বাতিল করেনি, তাদের (সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী) যে ন্যায্য অধিকারগুলো রয়েছে তা দেয়নি।’

‘বিএনপির শাসনামলে ২০০১ সালে সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়ার মাত্রা বেশি ছিল বলে আওয়ামী লীগ বলছে’, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দেবো যেটা আমার দলীয় বক্তব্য হবে, তাই না। আপনারা যে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করছেন, সেখান থেকে তো আপনারা দেখতে পারবেন। প্রত্যেকটা রিপোর্টে যেটা আসছে যে, এই সময়ে বেশি বেড়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভারতে যাওয়া।’

সেটা ২০০১ সালের থেকেও বেশি কিনা, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘অনেক বেশি, অনেক বেশি…। নিঃসন্দেহে। এটা আমার কথা না তো, আমেরিকাই তো পারসেন্টেজ বলে দিয়েছি কত পারসেন্ট যাচ্ছে। তাদের পত্র-পত্রিকায় আসছে তো।’

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘বছরদুয়েক আগে ঠাকুরগাঁওয়ে একজন প্রভাবশালী এমপি তিনি কয়েক শ’ জমি দখল করেছিলেন। সেটার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মিছিল করেছে, মানববন্ধন করেছে। কিন্তু কোনও সুরাহা বা সমাধান পায়নি। ফরিদপুরেও এরকম ঘটনা। এবারে দেখেন, শাল্লার ঘটনার নেতৃত্বে দিচ্ছে সবখানে এসছে যে, যুবলীগের নেতা। অথচ ওবায়দুল কাদের সাহেব বলছেন যে, ‘এখানে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।’ বিএনপির নাম-গন্ধ নেই এখানে। অর্থাৎ এটা হচ্ছে যে, মানুষকে যে বিভ্রান্ত করা, মানুষকে ভুল বুঝানো, মানুষকে যে একটা ভুল রাস্তায় নিয়ে যাওয়া সেটাই তাদের লক্ষ্য।”

‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কখনোই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষের শক্তি ছিল না বা এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে তারা কখনোই ছিল না। বরাবরই তারা যেমন সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে আছে, ঠিক একইভাবে সম্পত্তি দখল করেছে সেই কায়দায়।’, যোগ করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে শাল্লার ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে আসা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন,  ‘সম্প্রতি শাল্লা উপজেলায় হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ও উপাসনালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও নারকীয় ধ্বংসযোগ্য চালানো হয়। আমরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের বাড়ি ঘরে, উপাসনালয়ে অবর্ণনীয় ধ্বংস লীলা দেখতে পেয়েছি।’

প্রসঙ্গত,গত ২০ মার্চ নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী শাল্লায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে একটি প্রতিবেদন দলের কাছে জমা দেন।

গুলশানের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT