আবদুল কাদের মির্জাকে ‘মিথ্যাবাদী’ ডেকে তার শাস্তি দাবি নোয়াখালী আ.লীগ নেতাদের - CTG Journal আবদুল কাদের মির্জাকে ‘মিথ্যাবাদী’ ডেকে তার শাস্তি দাবি নোয়াখালী আ.লীগ নেতাদের - CTG Journal

রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

        English
আবদুল কাদের মির্জাকে ‘মিথ্যাবাদী’ ডেকে তার শাস্তি দাবি নোয়াখালী আ.লীগ নেতাদের

আবদুল কাদের মির্জাকে ‘মিথ্যাবাদী’ ডেকে তার শাস্তি দাবি নোয়াখালী আ.লীগ নেতাদের

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার, অশোভন আচরণ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নোয়াখালী সদর উপজেলা, পৌর আওয়ামী লীগ এবং জেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা তার বিচার দাবি করেছেন।

আজ শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ‘বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে অশোভনীয় বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচনের আগে থেকে প্রচার-প্রচারণার সময় যেসব বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তাতে মনে হয় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে নয়, নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থিত রাজনৈতিক দলের ভোটে। মনোনয়ন পাওয়ার আগে তিনি কখনও আওয়ামী লীগ বা দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি। কিন্তু দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবদুল কাদের মির্জার নাম ঘোষণার পর থেকে উন্মাদের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় সংসদের বিভিন্ন এমপি, মন্ত্রীসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুল আনম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ওবায়দুল কাদের ও একরামুল করিম চৌধুরীর সহধর্মিণী এবং এমপি পুত্র সাবাব চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় মুখপাত্রের ন্যায় বিবৃতি দিয়ে আসছেন। যা অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনাদায়ক।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ওবায়দুল কাদের ও একরামুল করিম চৌধুরীর অবদান উল্লেখযোগ্য। এতে প্রতীয়মান হয় জেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজে কাদের মির্জার মনে প্রতিহিংসা সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি যেসব মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করেছেন, সেগুলোর সত্যতা প্রমাণ করুক।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘মির্জা আবদুল কাদেরের পাগলের প্রলাপের মতো এত কিছু বলার পেছনে কোনও স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তা না থাকলে আবদুল কাদের মির্জার অবস্থান আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো? তিনি অতীতের সবকিছু ভুলে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে দলের গঠনতন্ত্রের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করেছেন আবদুল কাদের মির্জা। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও জেলা আওয়ামী লীগ এবং তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন তিনি।’

কাদের মির্জার এসব ‘অশোভন’ এবং ‘সংগঠনবিরোধী অসদাচরণের’ শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘কাদের মির্জা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মতো সচিবালয়ের বিভিন্ন সচিব, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চলছেন। তার ক্ষমতার দাম্ভিকতায় অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নাজেহাল হতে হয়েছে। এমন আচরণের জন্য দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাদের মির্জার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি সাংগঠনিক পর্যায় থেকে এসব মিথ্যা, অপপ্রচারমূলক বক্তব্য, অশোভনীয় ও অসদাচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করি।’

এ সময় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম সামছুদ্দিন জেহান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক বিপ্লব ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান বক্তব্য রাখেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT