অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের - CTG Journal অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের - CTG Journal

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
নতুন বছরে নতুন তরকারী হিসাবে পাহাড়ে কাঠাল খুবই প্রিয় সব্জি লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে যা জানালো বার কাউন্সিল ঈদের আগে লকডাউন শিথিল হবে মানিকছড়ি ভিজিডি’র খাদ্যশস্য সরবরাহে বিধিভঙ্গ করায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডি’কে শোকজ লকডাউনে মানিকছড়িতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, জরিমানা অব্যাহত চট্টগ্রামে দোকানপাট-শপিংমল খুলে দেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের না.গঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমিরসহ গ্রেফতার ৩ লকডাউন বাড়ানো হলো যে কারণে একদিনে প্রাণ গেল ১১২ জনের আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে ৬ চাঁদাবাজ আটক নাইক্ষ্যংছড়িতে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারনার অভিযোগে দুই যুবক আটক বান্দরবানে মারমা লিবারেশন পার্টির ২ সদস্য আটক, অস্ত্র ও কাতুর্জ উদ্ধার
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্রহ বাড়ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এত আগ্রহ, সে বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের উন্নয়ন অংশীদার এবং তারা এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। সে কারণেই তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা সব সময় বলে।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে শুধু বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী এমন মনে করার কোনও কারণ নেই। তারা যেসব দেশে নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা করে থাকে এমন প্রতিটি দেশে তারা নির্বাচন বিষয়ে তাদের মতামত দেয় এবং তারা অবজারভার পাঠায়।’

নির্বাচন ভালো না হলে তারা কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি ঘটে থাকে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সুশাসন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সেই দেশের সরকারের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হয় এবং আলোচনায় এই বিষয়গুলো অনেক সময় প্রাধান্য পায়।’

কিছুটা ভিন্ন মত প্রকাশ করে চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফায়েজ আহমেদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশের প্রতিনিধিদের অবস্থান থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি প্রকাশ্যে না বলে সরকারকে গোপনে জানালে আরও বেশি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক কূটনীতিকের কাজ হচ্ছে তিনি যে দেশে কর্মরত সেই দেশের নির্বাচনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং এ সম্পর্কে তাদের সদর দফতরে বিস্তারিত জানানো। একাজ আমরাও করেছি এবং এখনও করি।অন্য দেশগুলির কূটনীতিকরাও ব্যতিক্রম নন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের দেশের সঙ্গে আমাদের যে বৈঠক এবং আলোচনা হয় সেখানে আসন্ন নির্বাচন বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়টি আসে।’

তারা এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কী চায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়।’

গত দুই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেডেরিকো মুঘোরিনি, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠক হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব সাইমন ম্যাকডোনাল্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিজা কার্টিসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকগুলিতে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে একাধিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক ছাড়া সবগুলিতে নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে।’

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেডেরিকো মুঘোরিনির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকে বিএনপিসহ সব দলের নির্বাচনের বিষয়ে আলোকপাত করা হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয় ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এ বছর তারা নির্বাচন করবে কিনা সেটাও তাদের সিদ্ধান্ত। নির্বাচনে সব দলকে মোকাবিলা করতে সরকারি দল প্রস্তুত।’

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফ্রেবুয়ারি খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার একদিন পরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ঢাকায় আসেন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন।

মার্চে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পরে যে যৌথবিবৃতি প্রকাশ করা হয় সেখানে বলা ছিল যে দুই দেশে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজের সিনিয়র কর্মকর্তা লিসা কার্টিস পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT